রাবিতে ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ শীর্ষক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত

আপডেট: মে ২৩, ২০২২, ১০:০৭ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ শীর্ষক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ মে) বেলা ১১টায় ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ সেমিনার কক্ষে এ বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধবন্ধু অধ্যাপক ড. সনৎকুমার সাহা।

অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা বলেন, এই ভূখন্ডে মানব-বাস্তবতার ধারাটি মোট দাগে হলেও চিনে নেবার চেষ্টার আগে সেটা বিশ্বে মানুষের অন্তহীন চলাচলের দ্বন্দ্ব-মিলনে, বিরোধে-ঐক্যে অর্জনে-বিসর্জনে ক্রমাগত হয়ে ওঠার চালচিত্রটির অদ্বিতীয় প্রকাশমানতার স্বরূপের দিকেও একবার তাৎক্ষণিক দৃষ্টি ফেলি।

দূরান্তিক সংযোজন-বিয়োজনে তা সবটাই আকীর্ণ। যতটা আমরা যুক্ত দূরের গ্রহ-নক্ষত্রের সঙ্গে, সমুদ্রে প্রতিদিনের জোয়ার ভাটায় যার সামান্য প্রতিফলন, তার চেয়ে অনেক বেশি আমাদের পারস্পারিক যোগ কাছে-দূরে সব মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে, যদিও স্থান-কাল-পরিবার-পরিচয়ে আবদ্ধ খুব কমই আমরা এ নিয়ে ভাবি।

তিনি বলেন, প্রত্যক্ষের সীমায় আমরা আচ্ছন্ন থাকি-মিত্রতায়, শত্রুতাতেও। হয়ত এভাবে নিমগ্ন থাকাতেই আমাদের উদ্যমের বিকাশ। হয়ত এরই তাড়নাতে মানুষ বাধার পর বাধা অতিক্রম করে সামনে এগোয়। তবে সূক্ষ মননশীল বা অনুভূতিশীল যাঁরা, তাঁদের কারো-কারো চেতনায় মানব-সমগ্রের এই বোধ বার বার হানা দিতে পারে। এমন কি যখন তাঁরা আপন-আপন কাজের বৃত্তে আবদ্ধ, তখনও।

তিনি আরো বলেন, আজ ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ যে প্রতিমার উদ্ভাস আমাদের মনে আশার আলো জ্বালাতে পারে তা সর্বাংশে পূর্ণ মানবিক। তার বিস্তার সারা পৃথিবী জুড়ে। তার দুয়ার যদি ‘সোনার মন্দিরে’ খুলে যায়, তবে সে মন্দির ভেতরে যেমন, তেমন বাইরেও। আমাদের দৃষ্টি যে ‘কাছে’ থেকে ‘দূরে’ যায়, দূর হতে যদি আর কাছে না আসে, তাও। তবে ভেতরের কালিমা মোচনে বাইরের সুর, বাইরের স্বরকেও যেন আত্মস্থ করতে পারি, আমাদের ঐতিহ্যেই মেলে এর প্রেরণা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ইতিহাস, অর্থনীতি ও সমাজকে সমন্বিত করে বর্তমানকে নির্মাণের মাধ্যমে আগামীর দিশা দিয়েছেন প্রাবন্ধিক তাঁর প্রবন্ধে। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং যে উচ্চতায় বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ইতিহাসের আলোকে তারই পথ বাতলে দিয়েছেন প্রাবন্ধিক।

প্রবন্ধটির ভূয়সী প্রশংসা করে উপাচার্য বলেন, লেখনী ও দর্শনের যুগলবন্দিতে সমাজের মাঝে জন্ম নিবে এক অলৌকিক বোধ ও বধির। পৃথিবী স্বর্গময় হয়ে উঠার এক অশ্রুতপূর্ব সঙ্গীত হচ্ছে তার এই প্রবন্ধ।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজিমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম।

ইনস্টিটিউটের ফেলো শুভেন্দু সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক স্বরচিষ সরকার এবং মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ