রাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা ‘কেউ উপুড় হয়ে, কেউ চিৎ হয়ে পড়ে থাকে’

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ


রাবি প্রতিবেদক
‘আপনারা দেখেছেন, লিপুর লাশ ড্রেনের ময়লা, পচা পানিতে পড়ে ছিল। এরপর আপনি আমি যে কেউ পড়ে থাকতে পারি। কিছুদিন আগে আমার শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল স্যারের লাশ উপুড় হয়ে রাস্তার পাশে পড়ে ছিল। কেউ উপুড় হয়ে কেউ চিৎ হয়ে পড়ে থাকে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুসহ ক্যাম্পাসে সব হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিভাগের শিক্ষক কাজী মামুন হায়দার এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে শিক্ষক অধ্যাপক আকতার জাহানের লাশ পড়ে থাকে। লাশে পিঁপড়া লেগে যায়। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমরা শিক্ষকরা, আপনারা ছাত্ররা গর্ব করেন।
গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে ইংরেজি বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক, রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পা-ে বলেন, শিক্ষক হিসেবে ১৭ বছর ও শিক্ষার্থী হিসেবে আরও আট বছর, প্রায় ২৫ বছর ধরে এই ক্যাম্পাসে কতবার যে দাঁড়িয়েছিÑমৃত্যু, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশ। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, আস্তে আস্তে আবার ভুলে যাওয়া, আরেকটা মৃত্যু আবার একই কায়দা। আর কত লাশ দেখলে এর শেষ হবে ? আমরা এর শেষ দেখতে চাই। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই
দ্রুত তদন্ত কাজ শেষ করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানিয়ে ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এএফএম মাসউদ আখতার বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠোমোয় বাস করি। এ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কেউ অন্যায়-অবিচারের শিকার হলে বা হত্যাকা-ের মতো বর্বরতার শিকার হলে, বিচার বিভাগ তার কার্যক্রম কঠোরভাবে পরিচালনা করার কথা। কিন্তু হত্যাকা- ঘটলে আমাদের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতে হয় এবং দিনের পর দিন সেটা চলতে থাকে। এটা দুঃখজনক।’
গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিহুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজকে একটি বিশেষ ইস্যুকে সামনে রেখে এখানে দাঁড়িয়েছি বটে। কিন্তু আমাদের আলোচনায় সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। গণতান্ত্রিক শাসনব্যস্থায় পরিচালিত একটি দেশ, যেখানে আইন আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে, তবুও আমাদর ক্ষুব্ধ হতে হয়, রাস্তায় নামতে হয়।  এটা কি মাৎসন্যায় পদ্ধতি নাকি? যার ক্ষমতা আছে, সে ইচ্ছা করলেই কাউকে মারবে, খুন করবে, আমরা দু’দিন চিৎকার করবো তারপর থেমে যাবো, এটি আর চাই না।’
গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ বিপুল কুমার বিশ্বাস, সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আতিক সাদ্দাম, অধরা মাধুরী পরমা, আলী হোসাইন মিঠু, ইমরান খান নাহিদ, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সৌমিক আহমেদ ধ্রুব, নাট্যকলা বিভাগের হিমু রহমান প্রমুখ।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে লিপু চত্বর থেকে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সিনেট ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে পুনরায় লিপু চত্বরে এসে শেষ হয়।