রাবিতে ভর্তি পরীক্ষা || খাবারের গলাকাটা দাম, দেখার কেউ নেই

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন খাবার দোকানে মূল্য দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিপরীতে কমেছে খাবারের মান। নিম্নমানের খাবারের এত বেশী দাম নেওয়ায় ক্ষুব্ধ ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকরা। শুধু খাবার হোটেলগুলোতে নয়, রিকশা ও অটো চালকরাও স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়েও দ্বিগুণ-তিনগুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলসিলা রেস্তোরা, স্টেশন বাজার, টুকিটাকি চত্বর, বিনোদপুর ও কাজলা গেট এবং বিভিন্ন হলের সামনের খাবারের দোকানগুলোতে খাবারের মূল্য প্রায় দ্বিগুনের বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। দুই টুকরা গরুর মাংস বা মুরগীর মাংসের দাম যেখানে আগে ছিল ৩০ টাকা এখন তা ৬০টাকা থেকে ১০০টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই অবস্থা অন্যান্য খাবারের ক্ষেত্রেও। যেখানে মাছ এক পিসের দাম ছিল ২০টাকা এখন তা ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে।
পাবনা হতে আগত ভর্তিচ্ছু রবিন হাসান বলেন, খাবারের মান খুব খারাপ। কোনোমতে খাওয়া যাচ্ছে। অথচ দাম নেয়া হচ্ছে অনেক বেশি। খেতে হবে তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে এই খাবার খাচ্ছি।
বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, হলের ক্যান্টিন ও বাইরে খাবার দোকানগুলোতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। ভাজিতে পচা আলু, ভাতে দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের তরকারি দেয়া হচ্ছে। এমনকি অস্বাস্থকর পরিবেশে রান্না করায় খাবারের মধ্যে ইট-পাথরের টুকরো, মাছি, তেলাপোকাসহ বিভিন্ন পোকামাকড় পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে দেখার জন্য বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন তৎপরতা নেই।
বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মইনউদ্দিন বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা আসলেই ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের আশেপাশের খাবারের হোটেলগুলোতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করে খাবারের স্বাভাবিক মূলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। এতে অনেক ভোগান্তি হয়। কিন্তু  এসব দেখার কেউ নেই।’
মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে খাবার দোকানের মালিকরা বলেন, আমাদের অনেক সময় ব্যবসায় লাভ হয় না। তাই ভর্তি পরীক্ষার সময়ে এই সুযোগটা কাজে লাগাতে হচ্ছে। আমাদের তো ব্যবসা করতে হবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়গুলো প্রক্টরের দায়িত্বে আছে। তিনি ভাল বলতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খানকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমার দায়িত্ব আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা, খাবারের মান কেমন বা দাম বেশী নেয়া হচ্ছে কিনা তা দেখা নয়। তাহলে এসবের দায়িত্ব কার জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কিছু না বলেই ফোন কেটে দেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ