রাবিতে মাস্টাররোল কর্মচারীদের এক ঘণ্টা কর্মবিরতি

আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২০, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়ে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এক ঘণ্টা কর্মবিরতি করেছেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) মাস্টাররোল কর্মচারীরা। গতকাল বুধবার বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের সামনে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এসময় মাস্টাররোল পরিষদের মুখপাত্র শহীদ হবিবুর রহমান হলের কর্মচারী মাসুদুর রহমান বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্তদের ২৮০ জন কর্মচারী দক্ষতার সাথে কাজ করে আসছি। এই দীর্ঘ সময়ে চাকরির পর প্রায় সবাই অন্য সরকারি চাকুরিতে আবেদনের বয়সের যোগ্যতাও হারিয়েছেন। দৈনন্দিন জীবন দু:সহ হয়ে উঠেছে। ভিটে মাটি হারিয়ে ঋণগ্রস্থ হয়েছেন অনেকেই।
তিনি আরও বলেন, ১০ বছর আগে অস্থায়ীদের স্থায়ীকরার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করছে প্রশাসন। নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে এড হক নিয়োগ চলছেই। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে কম্পিউটার অপারেটর, শাহ মখদুম হলে পিওন, মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন বিভাগে এ্যাড হক নিয়োগ থেমে নেই। প্রায় ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার তথ্য আছে। এছাড়া আরও ১৬ জনকে স্থায়ী করা হয় ৪৯৬ তম সিন্ডিকেট সভায়।
চাকরি স্থায়ীকরনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে চাকরি করে আসছে। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো হাত নেই। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো আর্থিক তহবিল নেই এতজন কর্মচারীকে অর্থ সরবরাহ করার জন্য। এ বিষয়ে আমাদের তেমন কোনো ফলপ্রসু সিদ্ধান্ত হয় নি। প্রশাসন বরাবর দাবি না জানিয়ে তারা ইউজিসি’র সাথে যোগাযোগ করুক। ইউজিসি যদি তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের অনুমোদন দেয়, তাহলে তাদের নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আপত্তি থাকবে না।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় মাস্টারোল কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। বিষয়টি সুরাহার জন্য ওইদিন সন্ধ্যায় বিশ^বিদ্যালয়ের ৪৯৭তম সিন্ডিকেটে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করলে সেদিন আন্দোলন স্থগিত করেন তারা। পরের দিন সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিশ^বিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের সামনে ব্যান্যার লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেদিনের কর্মসূচি থেকে টানা ৭দিন এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তারা।