রাবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির সুযোগ না থাকায় ক্ষোভ || মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকারি নীতিমালা ও বিধি-বিধান উপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির সুযোগ না রাখায় রাজশাহীর মুক্তিযোদ্ধারা বিস্ময় ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন। এজন্য অবিলম্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী জেলা ও মহানগর ইউনিট কমান্ডের নেতৃবৃন্দ।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী জেলা ও মহানগর ইউনিট কমান্ড আয়োজিত এক  সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। এই দাবি মানা না হলে, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা, স্মারকলিপি প্রদান, প্রতীকী অনশন ও আইনের আশ্রয় গ্রহণসহ কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান, রাজশাহী মহানগর ইউনিট কমান্ডার ডা. মো. আব্দুল মান্নান। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’র কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও সন্তানদের সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, চাকরিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেবার সরকারি নীতি নির্ধারণ করে চলেছেন। তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবহেলা ও নিরবতা অবলম্বন করে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্বশাসিত, আধাস্বায়ত্বশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনির ভর্তির সুয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ দাবি পূরণ না করায় গত বছরের নভেম্বর মাসের ১৭ তারিখে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমান্ডের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুয়োগ দেয়া জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন ইতিবাচক সাড়া না দেয়ায় এবছরের অক্টোবর মাসের ১৩ তারিখে আবারো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবহেলা ও অবজ্ঞায় আমাদের আবেদন সম্পর্কে নিরাবতা পালন করেন।
গত ১৭ নভেম্বরে মহানগর ও জেলা ইউনিট কমান্ডের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষ্যৎ করেন। কিন্তু উপাচার্য এ বিষয়ে কোন ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশ্বাস না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। প্রকারান্তরে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর উষ্মাও প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নাতি-নাতনিদের ভর্তির সুয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত নীতিমালা উপেক্ষা করে অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছে। এবিষয়ে রাজশাহী জেলা ও মহানগর ইউনিট  কমান্ডের পক্ষ থেকে গভীর ক্ষোভ ও নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়। অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের ভর্তি কোটায় সুয়োগ দেয়ার জন্য জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী জেলা ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার ফরহাদ আলী মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রমানিক, মোহাম্মদ আলী কামাল, রবিউল ইসলাম, এ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু, লুৎফর রহমান, সাইদুল ইসলাম, আবুল বাসার, ইয়াসিন মোল্লা, শাহাদুল হক মাস্টার, আবুল বাসার, ইয়াসিন মোল্লা, আব্দুল জলিল, আলাউদ্দিন আল-আজাদ, মোহাম্মদ শুকুর উদ্দিন, আব্দুল হান্নান, আব্দুল সাত্তারসহ রাজশাহী জেলা ও মহানগর ইউনিট কমান্ডের ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ