রাবিতে শিক্ষকদের প্রতীকী অনশন

আপডেট: জুন ২৬, ২০২২, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিনিধি:


শিক্ষার্থীদের ন্যয়সঙ্গত অধিকার রক্ষায়, নিপীড়ন এবং দখলদারিত্ব মুক্ত শিক্ষাঙ্গনের দাবিতে প্রতীকী অনশন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (২৬ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে তাঁরা অবস্থান করেন। এসময় অনশনে সংহতি জানিয়ে অবস্থান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ক্রিয়াশীল কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অনশনে অংশগ্রহণ করে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা নিপীড়ন ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মুক্ত চিন্তার বিকাশ ঘটে, কিন্তু একশ্রেণির শিক্ষার্থী দ্বারা সেটা সম্ভব হচ্ছে না। স্বাধীনতার এতো বছর পরে এসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কার্যক্রম চলতে পারেনা।

তিনি আরও বলেন, আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য ও দখলদারত্বের ফলে শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীকে মারধর- লাঞ্ছনা, সিট বাণিজ্য ও দখলদারি মনোভাবের ফলে প্রতিনয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও মর্যাদার হানি হচ্ছে। এটা কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটতে পারেনা। বিশ্ববিদ্যালয় এমন ঘটনার কার্যকরী কোন পদক্ষেপে না নেয়ায় আমরা অনশনে বসেছি।

অনশনে সংহতি জানিয়ে অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, প্রশাসন থাকা স্বত্বেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন বন্ধু আরেকজন বন্ধুকে, একজন ছাত্র আরেকজন ছাত্রকে হল থেকে বের করার ঘটনা ঘটছে। এটা শুধু একটা কালচারের পরিবর্তনই নয় বরং মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। এটা এক প্রকার জঙ্গি আচরণ। এই কালচারের পরিবর্তন না হলে পরবর্তীতে এই সন্ত্রাসীরা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে গিলে খাবে।

অনশনে বীর মক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরী বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব নিয়েই আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। সেই চেতনা থেকে যেখানেই কোনো অন্যায়-অত্যাচার হয় সেখানেই তার প্রতিবাদে সামিল হই। এছাড়া শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে চলমান এমন নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদগুলো সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। সবাই প্রতিবাদ করলে এমন অচলায়তন ভাঙবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে চলেছে বৈধভাবে হলে সিট পেলেও সেখান উঠতে দিচ্ছে না ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেই সিটগুলো দখল করে সিট বানিজ্য করছেন তারা। প্রতিনিয়ত ছাত্রদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ পেয়ে আমরা প্রশাসনের বরাবর জানাচ্ছি কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। তারই প্রতিবাদে আমরা প্রতীকী অনশন করছি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব এবং অভিভাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দল ছাত্রলীগের একক আধিপত্য, হলে সিট বাণিজ্য, আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলে নির্যাতন ও নামিয়ে দেয়ার ঘটনা আলোচনার শীর্ষে। আবাসিক হলে ছাত্রলীগের এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ এবং কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাধ্যক্ষ পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ