বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

রাবিতে সান্ধ্যকোর্স বন্ধের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

আপডেট: December 15, 2019, 1:02 am

ওয়াসিফ রিয়াদ, রাবি


বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নির্দেশনার পর সান্ধ্য কোর্স বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এবার এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও (রাবি) এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে জোর দাবি উঠেছে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকরাও চায় সান্ধ্যকোর্স মুক্ত ক্যাম্পাস।
সান্ধ্যকালীন কোর্সের ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হক বলেন, সান্ধ্য কোর্স চালু হবার পর থেকে বিশ^বিদ্যালয়ের রেগুলার শিক্ষার্থীদের চেয়ে তাদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এতে করে অনেক সময় আমাদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনেক সময় লেগে যায়। এর ফলশ্রুতিতে বিভাগে জট লাগার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমরা চাই বিশ^বিদ্যালয় থেকে সান্ধ্য কোর্সগুলো বন্ধ হয়ে যাক।
আরেক শিক্ষার্থী সবুজ পারভেস বলেন, আমরা দীর্ঘ পরিশ্রমের পর যোগ্যতা নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। এরপর আমরা যেই সনদপত্র পাই, তার সমমানের সনদ সান্ধ্যকোর্সে টাকার বিনিময়ে দেয়া হয়। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় কখনওই এভাবে টাকা দিয়ে সনদ বিক্রি করতে পারে না।
সান্ধ্যকোর্সকে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উল্লেখ করে ছাত্র ইউনিয়ন রাবি সংসদের সভাপতি শাকিলা খাতুন বলেন, ‘সান্ধ্যকোর্স বিশ^বিদ্যালয়ের কোন নিয়মের সাথেই যায় না। এটা সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে উঠেছে। যেখানে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না, সেখানে সান্ধ্য কোর্সের কথা চিন্তাই করা যায় না। এর আগেও ২০১৪ সালে বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্স বন্ধের দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল। তারপরেও তা এখনও বহাল রয়েছে। আমরা চাই এ ধরণের সান্ধ্য কোর্স বিশ^বিদ্যালয় থেকে উঠে যাক।
রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, সান্ধ্যকোর্স সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের ধারণার পরিপন্থী। টাকার জোরে সনদপ্রাপ্তির মত এমন বৈষম্য একটি গণতান্ত্রিক বিশ^বিদ্যালয়ে থাকতে পারে না। এছাড়া সান্ধ্যকোর্সের নেশা শিক্ষকদের টাকার পেছনে চালিত করছে। ফলত গবেষণা ও পাঠদানের মান কমবে এটাই স্বাভাবিক কথা। সুতরাং অবিলম্বে এসব বন্ধ হওয়া উচিৎ।
এদিকে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ভবন সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ও ইউজিসির নির্দেশনার পর সান্ধ্যকোর্স নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। খুব শীঘ্রই এ নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
বিশ^বিদ্যালয়ের ফিশারীজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান বলেন, বিশ^বিদ্যালয় জ্ঞান উৎপাদন ও গবেষণার জায়গা। এখানে কোন ধরণের বাণিজ্য চলতে পারে না। সান্ধ্যকোর্স শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সান্ধ্যকোর্স মুক্ত ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিনের চাওয়া। আমি এর আগেও শিক্ষার্থীদের সাথে ছিলাম, এখও আছি। সান্ধ্যকোর্স মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে উঠুক, সেটাই আমারও দাবি।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনওই এই ধরনের কোর্স সমর্থন করি না। ইউজিসির নির্দেশনার কথা শুনেছি। এই ব্যাপারে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
এর আগে সান্ধ্য কোর্সের বিরুদ্ধে প্রবল আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে এটি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই দাবি মেনে নেয়নি। তবে সান্ধ্য কোর্স বন্ধের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নির্দেশনা দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব সান্ধ্য কোর্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।
সান্ধ্যকোর্সের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান বলেন, এই বিষয়ে আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি, তবে সামনের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি তোলা হবে। যদি বন্ধের সিদ্ধান্ত আসে তাহলে বর্তমানে চলা কোর্সগুলো শেষ করা হবে, নতুন করে এসব কোর্সে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ