রাবিতে হল ডাইনিঙে খাবারের মূল্য বৃদ্ধি || মান বাড়েনি, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিংগুলোতে খাবারের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। দুপুরের খাবারের মূল্য ৪টাকা বৃদ্ধি করে ২৪টাকা ও রাতের খাবারের মূল্য ২টাকা বৃদ্ধি করে ১৮টাকা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে বিশ^বিদ্যালয়ের হলের ডাইনিংগুলোতে এ খাবার মূল্য কার্যকর হয়েছে। এদিন দুপুরে খেতে গিয়ে হঠাৎ খাবারের মূল্য বৃদ্ধি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। খাবারের দাম বাড়লেও মান বাড়েনি বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডাইনিং এ লোকসান হচ্ছে এমন দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাধ্যক্ষ কাউন্সিল বরাবর খাবার মূল্যবৃদ্ধির আবেদন জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোজনালয় শ্রমিক ইউনিয়ন। এর প্রেক্ষিতে গত ১২ জুন প্রাধ্যক্ষ কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিপুল কুমার বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গত সোমবার খাবারের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাধ্যক্ষ কাউন্সিল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে ২০১০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রাধ্যক্ষ কাউন্সিলের সভায় ডাইনিং এ দুপুরের খাবার ১৬ থেকে ২০ টাকা এবং রাতের খাবার ১৩ থেকে ১৬ টাকায় বৃদ্ধি করে। এবারও একইভাবে খাবার মূল্য বৃদ্ধি করেছে হল প্রশাসন। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনা পরামর্শ নেয়া হয় নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, মান না বাড়িয়ে খাবারের দাম বাড়ানোর ফলে শিক্ষার্থীরা ডাইনিঙের খাবার খাবেন না। ফলে খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।  এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে রান্না করে খান। এতে শিক্ষার্থীদের খাবারের পেছনে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করতে হয়। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাসে অনেক শিক্ষার্থী রান্না করে খাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কয়েকশ গুন বেশি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, যদি সঠিকভাবে তদারকি করা হতো তাহলে শিক্ষার্থীরা ভালো খাবার পেত, অন্যদিকে বিদ্যুৎও সাশ্রয় হতো।
হবিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শোভন বলেন, ‘গরুর খাবারের আবার মান কী? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তো আমাদের গরুই মনে করে। তা না হলে বারবার আবাসিক হলগুলোর ডাইনিঙে খাবারের দাম বাড়ালেও মান যে আগের চাইতে বহুগুণ কমেছে সেদিকে কেউ ভ্রƒক্ষেপ করছে না। ডাইনিং এ সবচেয়ে নি¤œমানের চাল সরবরাহ করা হয়। আর রাজশাহীতে সবজির দামও বেশি নয়।’
শাহ্ মখদুম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মজুমদার বলেন, ‘খাবারের মান এতই খারাপ যে জেলখানার কয়েদিরাও এর চাইতে ভালো খাবার পায়। আমাদের টাকায় খাবারের ব্যবস্থা হলেও সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে পুষ্টিহীন অখাদ্য খাচ্ছি।’
খাবারের মান ছাত্রী হলগুলোতে আরো নি¤œ বলে অভিযোগ আবাসিক ছাত্রীদের। মুন্নজান হলের রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘ছাত্র হলের ডাইনিঙের তুলনায় আমাদের ডাইনিঙের অবস্থা আরো করুণ। যত দিন যাচ্ছে মেয়েদের জন্য খাবার সমস্যা ততই প্রকট আকার ধারণ করছে। ছেলেরা যেখানে-সেখানে খাবার খেতে পারে কিন্তু আমাদের সে সুযোগ না থাকায় ডাইনিঙেই চোখ বুঁজে খেতে হয় নতুবা না খেয়ে থাকতে হয়। এখন আবার খাবার মান না বাড়িয়ে মূল্য বৃদ্ধি করেছে প্রশাসন।’
আবাসিক হলগুলোর খাবার মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, খাবারের মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ভোজনালয় শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করে প্রাধ্যক্ষ কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা তাদের সিদ্ধান্ত।
প্রাধ্যক্ষ কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এত কম দামে খাবার কোথায় আছে? ২০১০ সালে ২৫% ও ২০% হারে দুপুর ও রাতের খাবার মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা ১২% ও ১৫% হারে বাড়িয়ে খাবার মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে হারে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য এটাই তো বড় সুবিধা। সবার কথা বিবেচনায় রেখে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’ খাবারের মানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ভোজনালয় শ্রমিকদের সাথে কথা হয়েছে। দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ