রাবির দুই শিক্ষকের থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি

আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০১৭, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পিএইচডি গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গত রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগে নীতিমালা নির্ধারণ করা নিয়েও সভা থেকে পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়। জালিয়াতির অভিযোগ ওঠা দুই শিক্ষক হলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। তবে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকই তাদের গবেষণাপত্রে কোন জালিয়াতি নেই বলে দাবি করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আনিসুর রহমান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের পিএইডি গবেষণায় জালিয়াতির লিখিত অভিযোগ নিয়ে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল লতিফকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দু’জন সদস্য হলেন, সিন্ডিকেট সদস্য ডা. রুস্তম উদ্দিন আহমেদ এবং ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবু বকর মো. ইসমাইল।
তবে পিএইচডি গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন ওই দুজন শিক্ষকই। অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমাকে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে পিএইডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়। গবেষণার বিষয় ছিলো ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা।’ ওই একই সময়ে অন্য একটি এমফিল গবেষণা প্রকাশিত হয়। তবে আমার গবেষণার বিষয়ে আমি বিন্দুমাত্র সন্দিহান নই। কোন ধরনের জালিয়াতি আমি নিজেও করি না, করা পছন্দও করি না। যিনি অভিযোগ দিয়েছেন তার আর আমার গবেষণার মধ্যে বিস্তর ফারাক। তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা তদন্ত করলে এর প্রমাণও পাবেন।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘যখন অভিযোগের কথা শুনি, আমিই উপাচার্যকে অনুরোধ করেছিলাম তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য। তাহলেই প্রমাণ হয়ে যাবে। আমার পিএইচডি গবেষণা নিয়ে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, কোনো ধরনের জালিয়াতির প্রশ্নই আসে না। তদন্ত কমিটি বিষয়টি যথাযথভাবে সবকিছু আমলে নিলে এ অভিযোগের যে কোন ভিত্তি নেই- সেটি প্রমাণ হয়ে যাবে। মূলত আমাকে হেয় করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ দেয়া হয়েছে।’
এদিকে বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ন্যূনতম ৪ দশমিক ৫০ এবং ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তরে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫০ ফলাফলের নিয়ম রাখা না রাখার বিষয়েও সিন্ডিকেট সভায় দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাকে প্রধান করে শিক্ষক সমিতির সভাপতি, কয়েকটি অনুষদের ডীন ও সিন্ডিকেট সদস্যদের রেখে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সুপারিশের প্রেক্ষিতেই পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ