রাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে আটক ১

আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০১৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টার সময় এক শিক্ষার্থীকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসসহ আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রকৌশল অনুষদের (‘এইচ’ ইউনিট) জোর রোল নম্বরধারীদের পরীক্ষা চলাকালে তাকে আটক করা হয়।
আটককারীর নাম আশিক আহমেদ। বগুড়ার সাজাহানপুর থানার মাঝিরা গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে আশিক। তিনি বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী। গতকাল রাত সাড়ে নয়টায় রাবি উপউপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আশিক শার্টের ভেতর সনি রেক্সন ফোনসেট বিশেষ কায়দায় বুকের সঙ্গে বেঁধে রাখে। শার্টের পটের একটা অংশে ছিদ্র রয়েছে। সেই ছিদ্র শার্টেরই বাড়তি অংশ দিয়ে ঢেকে রাখা যায়। শার্টের ওই ছিদ্রের সঙ্গে ফোনের ক্যামেরা সেট করে আশিক। শার্টের পকেটের কাছের ওই অতিরিক্ত অংশ সরালেই সামনে থাকা প্রশ্নপত্র দেখা যায়।’
তিনি বলেন, আশিকের ফোনের সঙ্গে হেডফোন লাগানো ছিলো। হেডফোনের একটা অংশ তার প্যান্টের পকেটে থাকতো তার। ওই হেডফোনের বার্টনে একটা চাপ দিলে ক্যামেরা চালু হয়। দ্বিতীয় চাপে ছবি ওঠে। আর তৃতীয় চাপে ওই ছবি নির্দিষ্ট ঠিকানায় চলে যায়। এভাবে আশিক তিন চাপে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ছবি বাইরে জালিয়াতি চক্রের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করছিলো। তার কাজই হচ্ছে জালিয়াতি চক্রের কাছে ছবি পাঠানো। আর ওই জালিয়াতি চক্র হয়তো প্রশ্নপত্রের সমাধান করে অন্য কোনো পরীক্ষার্থীদের উত্তর পাঠানোর চেষ্টা করতো। কিন্তু আমরা তাকে ধরে ফেলি।’
উপউপাচার্য জানান, আশিক বিভিন্ন শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ফরম তুলেছে। কিন্তু তিনি প্রত্যেক ফরমেই নিজের ছবি ব্যবহার করতেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ কায়দায় এই একাধিক ছবি ব্যবহার করে ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই সনাক্ত করেছিল। ওইসব শিক্ষার্থীদের ধরার জন্য পরীক্ষার হলে নজরদাবি রাখা হয়েছিল। তাদের কাউকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। কিন্তু আশিককে অংশগ্রহণ করতে দেখে ডিভাইসসহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।