রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ || ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ নিয়ে শিক্ষকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেট: আগস্ট ১, ২০১৭, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শ্রেণীকক্ষে এবং শ্রেণীকক্ষের বাইরে বিভাগের অন্য শিক্ষকদের নামে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগ করেছেন ওই বিভাগের ১১ জন শিক্ষক। গতকাল সোমবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষকও বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সাক্ষাত করে তার বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ কথা বলা হয়েছে অভিযোগ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শিক্ষকদের পাল্টাপাল্টি এমন অভিযোগ নিয়ে দিনভর বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১১ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্রে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীন বিভিন্ন সময় শ্রেণীকক্ষে এবং শ্রেণীকক্ষের বাইরে শিক্ষকদের নামে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করছেন মর্মে অভিযোগ আনা হয়। লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দ্রুত একাডেমিক কমিটির সভা আহবানের দাবি জানানো হয় বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিমা জামানকে। তার প্রেক্ষিতে সোমবার সকাল ১১টায় একাডেমিক কমিটির তলবী সভা আহবান করেন বিভাগীয় সভাপতি।
সোমবার শিক্ষকরা সভায় আসলেও আরেকটি নোটিশের মাধ্যমে বিভাগীয় সভাপতি শিক্ষকদের জানান, উপউপাচার্যের মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে সভা স্থগিত করা হয়েছে। তবে বিভাগের শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, তারা উপউপাচার্যের সাথে কথা বলে জেনেছেন, তিনি এ ধরনের কোন নির্দেশ দেননি। সভাপতির সাথে রুখসানা পারভীনের ভালো সম্পর্ক থাকায় সভাপতি এ বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগকারী শিক্ষকদের পক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম আমিনুর রহমান, অধ্যাপক রুহুল আমিন, অধ্যাপক এসএম রাজী ও অধ্যাপক কফিল উদ্দিন আহমেদ জানান, শিক্ষকদের নামে যদি রুখসানার কোন অভিযোগ থাকেই তবে বিভাগের মাধ্যমে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সমাধান করতে পারতো। শ্রেণীকক্ষে ও শ্রেণীকক্ষের বাইরে ‘কুরুচিপূর্ণ’ ও ‘মানহানিকর’ কথা বলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার দরকার ছিলো না। আর সভাপতি নিজেও মিথ্যা কথা বলে সভা বাতিল করলো। এটাও অনৈতিক। রুখসানা শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয় দেখায়, শিক্ষকদের নামে আপত্তিকর কথা বলেন। আমাদের কাছে এসব প্রমাণও আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে আমরা প্রদান করতে পারবো।
এদিকে রুখসানা পারভীনের নামেও শিক্ষকরা ‘মানহানিকর’ তথ্য ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্ত কমিটির দাবি জানিয়েছেন। রুখসানা পারভীন বলেন, ‘আমি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সাক্ষাত করে প্রতিকার চেয়ে দরখাস্ত দিয়েছি। তদন্ত কমিটিও দাবি করেছি। তদন্ত কমিটি হলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। তারা কিভাবে আমাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়িয়েছে তার সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। তদন্ত কমিটির কাছে আমি তা প্রদান করবো।’
এই ঘটনায় দিনভর চাপা উত্তেজনা বিরাজ করেছে বিভাগে। ক্লাসও অনুষ্ঠিত হয়েছে খুব কম। শিক্ষার্থীরাও এ বিষয়ে কোন ভয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দফায় দফায় সভা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সাক্ষাত করেছেন অভিযোগকারী ১১ জন শিক্ষক। প্রশাসনের সাথে দেখা করেছেন বিভাগীয় সভাপতি ও রুখসানা পারভীনও।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিমা জামান বলেন, ‘আমাকে উপ-উপাচার্য বলেছিলেন আমি যেন উপাচার্যের সাথে কথা না বলে সভা না করি। তার সেই কথাই আমি নির্দেশনা আকারে নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু শিক্ষকরা উল্টো বুঝেছেন। আমি প্রশাসনের সাথে দেখা করে পরামর্শ চেয়েছি। প্রশাসন বিষয়টি দেখবে বলে কথা দিয়েছেন। তাদের নির্দেশনা পাবার পরই পরবর্তী সভা আহবান করা হবে।’
বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘আমি সময়ের অভাবে তাদের সাথে দেখা করতে পারিনি। বিষয়টি সম্পুর্ণভাবে দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপউপাচার্যকে। তিনি সব পক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ