রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবার শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর অভিযোগ

আপডেট: আগস্ট ২২, ২০১৭, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুখসানার বিরুদ্ধে এবার বিভাগের এক শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
বিভাগের ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাদিম মোস্তফা তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘আমার শিক্ষক রুখসানা পারভীন বিভিন্ন সময় আমাকে অপমান, অপদস্থ এবং হয়রানি করেছেন। বিশেষ করে তিনি একাডেমিক ও মানসিকভাবে চরম নির্যাতনের মুখোমুখি করেছেন। পরীক্ষায় ফেল করে দেয়ার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। তিনি তার বাসায় কাজের মেয়ে সরবরাহের জন্য আমাকে বাধ্য করতেন। অপরাগতা প্রকাশ করলে ফেল করিয়ে দেবার ও পুলিশি হয়রানির হুমকি দিতেন। ৫-৬ বার কাজের মেয়ে সরবরাহ করেছি। পরবর্তীতে অপারগ হওয়ায় তিনি চতুর্ষবর্ষে তার কোর্সের (৪০৫) ইনকোর্স পরীক্ষা নেননি। কাজের মেয়ে সরবরাহ না করলে পরীক্ষা নেবেন না বলে পরিস্কার জানিয়ে দেন। এমনকি পরবর্তীতে চূড়ান্ত পরীক্ষায়ও আশানুরূপ নাম্বর দেননি।’
নাদিম মোস্তফা অভিযোগ করেন, ‘কোনমতে ¯্নাতক শেষ করলেও ¯্নাতকোত্তরে ভর্তিই হতে পারিনি রুখসানা পারভীনের কারণে। তিনি কয়েকবার হুমকি দিয়েছেন যে, আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকি তাহলে তিনি আমাকে দেখে নেবেন এবং পুলিশি হয়রানি করবেন। তার এমন আচরণেই ¯্নাতকোত্তরে ভর্তি হইনি।’ এমন পরিস্থিতিতে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রুখসানা পারভীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এগুলো সবই ওই ১১ শিক্ষকের ষড়যন্ত্র। তারা শিক্ষার্থীকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে আমার করা অভিযোগকে ধামাচাপা দেবার জন্য। তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা সবকিছু খতিয়ে দেখবে।’
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন রুখসানা পারভীন। এর মধ্যে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘যৌন হয়রানির’ অভিযোগও তোলেন। এসময় ১১ জন শিক্ষক রুখসানার বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ অভিযোগ তোলেন। পরে গত ২ আগস্ট বিভাগের শিক্ষকরা ৭টি কারণ উল্লেখ করে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামানের প্রতি অনাস্থা ও রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে লিখিত অভিযোগ দেন। পরদিন অধ্যাপক নাসিমা জামান অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ তুলে বিভাগের ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দেন। ৪ আগস্ট বিভাগের ১১ শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন করে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। ৫ আগস্ট রাতে সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেন ওই ১১ শিক্ষক। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক বিষয় তদন্তের জন্য গত ৬ আগস্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ