রাবির শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নিয়ে সমালোচনার ঝড়

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৭, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নবনির্মিত শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিচিত্র স্মৃতিফলকের নিচের দিকে ফুটিয়ে তোলায় এই সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্মৃতিফলক নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নবনির্মিত এ স্মৃতিফলকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিচিত্র, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বুদ্ধিজীবী হত্যার হারানো ইমেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে শহিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ড. সুখরঞ্জন সমাদ্দার, শহীদ ড. হবিবুর রহমান ও মীর আব্দুল কাইয়ূমের মেটাল ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে।
তবে ফলকটিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নিচের দিকে স্থাপন করাকে অবমাননা অভিহিত করে এর প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে ফেইসবুকে। এর বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছেন রাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অনেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির আকৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে এটি সংস্কারেরও কথা বলেছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘গোটা জাতি যেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি বা ছবিকে সবার উপরে রাখে, এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা মহামন্য রাষ্ট্রপতির ছবিরও উপরে বঙ্গবন্ধুর ছবি রাখে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি নিচে লাগানো হয়েছে। এমন অবমাননা কি মেনে নেয়া যায়? এখনি সময় হোক প্রতিবাদ।’
শফিকুল ইসলাম নামের আরেকজন শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের ছবিসহ তার ফেইসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রশাসন শহিদ বুদ্ধিজীবী চত্বরের নামে ‘কয়েক লাখ টাকা লুটপাট’ করেছে বলে লিখেছেন।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুসতাক আহমেদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেইসবুক ওয়াল থেকে রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জুর পোস্টে মন্তব্য লিখেছেন, ‘প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই।’
একই পোস্টে আরেকটি মন্তব্যে ড. মুসতাক আহমেদ লিখেছেন, ‘প্রতিবাদ ও ঘৃণা কিভাবে জানানো যায় সে ব্যাপারে কৌশল নির্ধারণের জন্য বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের অনুরোধ জানাচ্ছি।’ প্রত্যুত্তরে রাশেদুল ইসলাম লিখেছেন, ‘স্যার চলেন আমরা সবাই এক হয়ে মানববন্ধন বা নগ্ন পদযাত্রা করি বা প্রতিবাদ করি।’
ফারুক হাসান নামের একজন লিখেছেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী সরকার, তখন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এমন অবমাননা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সভাপতি এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণের শিল্প পরামর্শ কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ঋতেন্দ্র কুমার শর্ম্মা বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক একটি শিল্পকর্ম, এটা নিয়ে নানা সমালোচনা উঠতে পারে। এর আগে সাবাশ বাংলাদেশ ভাস্কর্যটি নিয়েও নেতিবাচক কথা উঠেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটা শিল্পকর্মকে নানাভাবে মূল্যায়ন করা যায়। যারা সমালোচনা করছেন তাদের দৃষ্টিতে এরকম মনে হয়েছে। এটাকে অতো বড় করে দেখার কিছু নেই। আমার মতে, এগুলো এতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু না।’