রাবি অধ্যাপকের মৃত্যুঘটনা তদন্তে কমিটি ।। রাবি কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাই

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ

বিলম্বে হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাা তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এর জন্য কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাই। তবে মৃত্যুর পরের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা না করে ঘটনাটির তদন্তে কমিটি গঠন করলে আরো ভাল হত। শুধু এই ঘটনা অর্থেই নয়- অস্বভাবিক প্রতিটি ঘটনার জন্যই নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন থাকা উচিৎ বলেই আমরা মনে করি।
অধ্যাপক আকতার জাহানের মৃত্যুর ঘটনা যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে তা বলাই বাহুল্য। মৃত অধ্যাপকের শিক্ষার্থীসহ তাঁর সতীর্থ শিক্ষকগণও তাঁর মৃত্যুতে বেশ বেদনাহত হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়- এই মৃত্যুর ঘটনা রাজশাহীসহ সারা দেশের মানুষের বেদনাকে স্পর্শ করেছে। তাই এই মৃত্যুর প্রতিবাদটাও বেশ তিব্র-মৃত্যুকে কেউ যদি প্ররোচিত করে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।
দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা সূত্রের উল্লেখ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নিরোধ কমিটি তদন্ত শেষে সিন্ডিকেটে সুপারিশ করবে এবং সিন্ডিকেট এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সিন্ডিকেট সভায় ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা-২০১০’ এর আলোকে সাত সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সেলিনা পারভীনকে সভাপতি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফেরদৌসি বেগমকে সদস্য সচিব করা হয়।
অধ্যাপক আকতারের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তার সাবেক স্বামী ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে অধ্যাপক তানভীর আহমেদ তার ফেইসবুক স্টাটাসে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আরও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে অযাচিতভাবে তাঁর সাবেক স্ত্রীর চরিত্র হননের চেষ্ট করেছেন। তার এই গর্হিত কর্মকা-ে তাঁর সাবেক স্ত্রী সম্পর্কে তার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি যে মানসিক নিপীড়ন করেছেন তার কিছুটা আভাস তার স্টাটাস থেকেই উপলব্ধি করা যায়। তিনি যে তাঁর সাবেক স্ত্রীকে চরিত্রহীন বানাতে চেয়েছেন-অথচ তার কিশোর সন্তানের ভবিষ্যত ব্যাপারে একটুও ভাবেন নি। পিতার সাক্ষ্যে মায়ের চত্রিহীনতার অভিযোগ- সন্তানের মানসিক অবস্থা ও তার ভবিষ্যতকে ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে সে বিষয়টি তিনি একবারও ভাবেননি। এমন রুচিহীন বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের মুখ থেকে বেরিয়ে আসাটা খুবই দুঃখজনক। তিনি তার শিক্ষার্থীদের কাছেও একটি বিকৃত রুচির উদাহরণ তৈরি করে রাখলেন।
অধ্যাপক আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেটির অগ্রগতি তেমন লক্ষ করা যাচ্ছে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন দিবে তাতে নিশ্চয় মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যাবে- যা মামলার গতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। যাহোক, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এই প্রত্যাশাই আমাদের রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ