রাবি : অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও আব্দুস সোবহানের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

আপডেট: মে ২৩, ২০২১, ১১:২৫ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. এম আব্দুস সোবহানের শেষ কর্মদিবসে বিতর্কিতভাবে দেয়া ১৩৭ জনের নিয়োগ বাতিল এবং তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। রোববার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের নিকট দেয়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়েছে।
এতে সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি আব্দুস সোবহানের আরেকটি দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। বিচারের আগেই পালিয়ে যেতে পারেন আশঙ্কায় এই সুপারিশ করা হয়েছে।
গত ৬ মে ড. এম আব্দুস সোবহান তার শেষ কর্মদিবসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে ১৩৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে যান। যদিও এর কয়েক মাস আগেই বিশ্ববিদ্যালয়টির সব নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে তাকে চিঠি দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, ‘ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। যেহেতু ড. সোবহানের অন্য একটি দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে, তাই তার বিদেশ যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোপরি কমিটি তার এখতিয়ার ও আইন অনুযায়ী সুপারিশ রেখেছে। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে মন্ত্রণালয়।’
তদন্ত প্রতিবেদনে এম সোবহানের দেয়া এ অবৈধ নিয়োগের সুবিধাভোগী বেশ কয়েকজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষকদের স্ত্রী, সন্তান, জামাতাসহ বিভিন্ন নিকটাত্মীয় অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। এজন্য অবৈধ এ নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদেরও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া এত বড় অবৈধ নিয়োগ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় দুই উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে।
এর আগে ৬ মে বিদায়ী উপাচার্যের অবৈধ নিয়োগের পর ওইদিন রাতেই ‘অবৈধ নিয়োগের বৈধতা পাওয়ার সুযোগ নেই’ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপণ জারি করে শিক্ষান্ত্রণালয়। পরে এ ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটিকে এ অবৈধ নিয়োগের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে সুপারিশমূলক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে নিয়োগের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করেছে তদন্ত দল। কমিটির প্রতিবেদনে নিয়োগের ঘটনায় প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ড. এম আব্দুস সোবহানকে। এ ঘটনায় প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তার জামাতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রভাষক এটিএম শাহেদ পারভেজকে।
এছাড়া সংস্থাপন শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী, রেজিস্ট্রার শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার তারিকুল আলম ও পরিষদ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মামুন অর রশীদকে সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ