রাবি ও পাবিপ্রবি’র দুই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ৯:৪১ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) দুই ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৩য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। ওই শিক্ষার্থীর নাম ইমরুল কায়েস। তার গ্রামের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর গ্রামে। বাবা শহীদুল্লাহ ও মা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন ইমরুল।

জানতে চাইলে ইমরুলের বাবা বলেন, কিছুদিন আগে মায়ের কাছে মোটর সাইকেল কিনে চেয়েছিলো ইমরুল। পরে তাকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়া হয়। ঘটনার আগে আগে সে একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনে দিতে বলেছিল। কিন্তু মধ্যরাতে ক্যামেরা কিনতে যাওয়া যাবে না বলে মা তাকে বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এরপর সে রুমের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেয়। পরে রুমের দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ইমরুলের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, ইমরুল মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিল।

রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারেও ছিল কিছুদিন। এরমধ্যে বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলে সহপাঠীদের সাথে কথা বলে ভর্তিও হয়েছেন তিনি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তার পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এ ধরনের মানসিক হতাশা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে তাদের নিয়ে বসা, ক্লাস করা উচিত।

এদিকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম তাহমিদুর রহমান জামিল (২২)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহীবাগ এলাকার বজলার রহমানের ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে পাবনা শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, শহরের শালগাড়িয়া মেরিল বাইপাস এলাকার সাফল্য ছাত্রাবাসে থাকতেন জামিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তার কোনও সাড়া-শব্দ পাননি সহপাঠীরা। পরে কক্ষের দরজা খুলে তাকে ফ্যানের হুকের সঙ্গে ব্যাগের বেল্ট গলায় পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে থানায় খবর দেন তারা। পরে পুলিশ পৌঁছে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, জামিলের কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে ‘বাবা-মা ক্ষমা করো, গুড বাই’ এ রকম কিছু কথা লেখা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে লাশ ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবারের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়।