রাবি ও রুয়েটে কর্মকর্তা সমিতির মানববন্ধন

আপডেট: জুন ১৯, ২০২২, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত বৈষম্য দূরিকরণ ও কর্মকর্তা নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়ন সংক্রান্ত অভিন্ন নীতিমালায় ১২ দফা সংযোজনের দাবিতে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশন কর্তৃক ঘোষিত মানববন্ধনের অংশ হিসেবে রোববার (১৯ জুন) সকাল ১১ টায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতি একাত্মতা পোষণ করে রুয়েট প্রধান ফটকে মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রুয়েট কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি নাজিমউদ্দীন আহম্মদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কর্মকর্তা সমিতির সহসভাপতি মো. রোকনুজ্জামান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কর্মকর্তা সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী নাসির উদ্দীন শাহ্, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম রোজ, প্রচার সম্পাদক আ.ফ.ম. মাহমুদুর রহমান দীপন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মামুনুর রশীদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মোসা. রাজেফা খাতুন, সদস্য- আরিফ আহম্মদ চৌধুরী, মোহা: মাহবুবুল আলম, প্রকৌশলী আসিফ আল আমিন সাফি, প্রকৌশলী নাঈম রহমান নিবিড় ও বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তাবৃন্দ। মানববন্ধনে বক্তারা ‘বাংলাদেশ আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশন কর্তৃক ঘোষিত ১২ দফা দাবির প্রতি সহমত পোষণ করেন।’

এদিকে বাংলাদেশর সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত বৈষম্য দূরীকরণ ও কর্মকর্তা নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়ন সংক্রান্ত অভিন্ন নীতিমালায় প্রণয়ণে ১২-দফা দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্মকর্তাবৃন্দ।
এদিকে রোববার বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে পালিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে দর্শন বিভাগের সহকারি সেকশন অফিসার মাসুদ রানা বলেন, আজকে আমাদের অফিসে বসে শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার পরিবর্তে রাস্তায় অবস্থান করছি। ইউজিসির এই কালো থাবার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের রাস্তায় এসে দাঁড়াতে হয়েছে এর মতো লজ্জা আর কি হতে পারে? ইউজিসি একটি আমব্রেলা নামক কমিটি গঠন করে বাংলাদেশের ৫২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি নীতিমালায় আনতে চাচ্ছে। আমরা গোপন সূত্রে শুনেছি তারা আমাদেরকে দুটো প্রমোশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় যেটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টের নীতিগত লঙ্ঘন।

তিনি আরো বলেন, আমার ৬২ বছর নয় ৬৫ বছর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে চায়। যত প্রশাসনিক কোটা খালি আছে, সেগুলোতে যোগ্যতম লোক বাচাই করে নিয়োগ দিতে হবে। কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ সুবিধা থাকবে।

শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা কামরুজ্জামান চঞ্চল বলেন, ইউজিসি কর্তৃক গোপনীয়ভাবে কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার খর্ব করার যে যড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তা প্রকাশ করার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের জানাতে চাই। তার প্রতিবাদে আজ আমরা আন্দোলনে নেমেছি। আমি ওই সকল শিক্ষকদেরকে ধিক্কার জানাই যারা আমাদেরকে লেবার মনে করে, আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলতে চাই আমরাও আপনাদের থেকে কোনো অংশে কম নয়। যদি তাই না হয় তাহলে কেন আপনারা আমাদের কর্মস্থল কেন দখল করতে আসেন?

অডিট সেলের কর্মকর্তা মাসুম আল রশিদ বলেন, ‘অনেকেই আমাদেরকে প্রশ্ন করছে ১২ দফা দাবির যৌক্তিকতা কতটুকু? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমাদের চাওয়া দাবিগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন বাস্তবায়ন হবে না? যারা সেকশন অফিসার হিসেবে যোগদান করবে শুধু তাদেরই পদোন্নতি হবে এটি কেমন নীতিমালা।

প্রাইমারিতে চাকরিরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে চাকরি করেও সেই সুযোগ সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কেন এতো বৈষম্যের শিকার হতে হবে? আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’ মাবনবন্ধনে ড. গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, অনুষদ, প্রশাসন ভবন প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ