রাবি : তোপের মুখে ফের রাবির সিন্ডিকেট সভা পণ্ড

আপডেট: জুন ২২, ২০২১, ১০:৫২ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের তোপের মুখে ফের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিন্ডিকেট সভা পণ্ড। গতকাল মঙ্গলবার সিন্ডিকেট সভা আটকাতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে উপচার্য বাসভবনে অবস্থান নেন নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। আন্দোলনকারীরা বলছেন- নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে প্রায় ৩০ জন নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী অবস্থান করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর এবং ছাত্র উপদেষ্টা এসে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। তবে আন্দোলনকারীরা এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ৯টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে।
এর আগে গত সোমবার উপাচার্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করে। পরে ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই আবারও উপাচার্যের বাসভবনে তালা লাগিয়ে আন্দোলনে নামে তারা। আন্দোনকারীরা জানান, নীতি নির্ধারকদের মিথ্যা আশ্বাসের ওপর ভরসা পাচ্ছেন না তারা। এজন্য তারা পুনরায় আন্দোলনে নেমেছেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সুমন বলেন, ‘উপাচার্য স্যারের সাথে আমাদের ব্যক্তিগত কোন সমস্যা নেই। আমরা চাই আমাদের নিয়োগে যোগদানের সুযোগ করে দিক। কিন্তু আমরা ওনাদের কোন আশ্বাসে ভরসা করতে পারছি না। আজ ওনারা নাকি সিন্ডিকেট সভা করবেন, এই সভায় হটকারি সিদ্ধন্ত নেবেন না এর কি নিশ্চয়তা রয়েছে? আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।
এঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা জানান, ‘এ বিষয়টি আমি একা সমাধান করতে পারব না। শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা তা মেনে নেব।’
সিন্ডিকেট সভার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাকরিপ্রাপ্তদের বিষয়ে আজ সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সুপারিশ করতাম। বেশ কয়েকদিন থেকে এই সিন্ডিকেট সভা করতে চেয়েও করতে পারি নি। আজও সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করতে বাধ্য হলাম।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান তার শেষ কর্মদিবসে (৬ মে) ১৩৭ জনকে অ্যাডহকে (অস্থায়ী) নিয়োগ দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। সেদিন এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে সেদিনই বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেই নিয়োগ স্থগিত রাখে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা। পরে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তদন্ত করে গত ২৩ মে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। শেষ অবৈধ নিয়োগে তদন্ত কমিটি বিদায়ী উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে। আবদুস সোবহানের দেশ ত্যাগেও নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর মধ্যেই নিয়োগপ্রাপ্তরা যোগদানের জন্য ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ