রাবি : পরীক্ষা অসম্পন্ন থাকায় চাকরিতে আবেদন করতে পারছে না হাজারো শিক্ষার্থী

আপডেট: October 17, 2020, 12:09 am

ওয়াসিফ রিয়াদ, রাবি:


করোনা সংক্রমণ রোধে সাত মাস দেশের সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অনলাইনে ক্লাস নেয়া হলেও আটকে আছে বিভিন্ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের চলমান পরীক্ষাগুলো। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী চাকরিতে আবেদন করতে করতে পারছে না বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা আটকে থাকার কারণে উভয় সংকটে পড়েছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এমতাবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে রুটিন করে পরীক্ষাগুলো নেয়ার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম, সমাজবিজ্ঞান, আইন, আইন ও ভূমি প্রশাসন, ইসলামিক স্টাডিজ, রসায়ন, ফার্মেসী, পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, গণিত, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্সসহ আরও বেশ কয়েকটি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ঝুলে আছে।
জানতে চাইলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম মিতু বলেন, ‘আমাদের আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো যদি হয়ে যেত তাহলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হতো। কারণ, সামনে অনেক সার্কুলার বের হবে যেখানে আমরা আবেদন করতে পারছি না। এছাড়াও আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের বিশেষ করে জুডিসিয়াল পরীক্ষাও রয়েছে। আগের পরীক্ষার ভাইবা কিছুদিনের মধ্যে শেষ হবে। এর কিছুদিনের মধ্যেই আবার সার্কুলার হবে। আমরা এই সুযোগগুলো থেকে বঞ্চিত হতে চাইনা।’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের চতুর্থ বর্ষের একটা পরীক্ষা বাকি থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে আমরা কোন চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছি না। করোনার জন্য শিক্ষাজীবন আর চাকরি উভয় সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে আমাদের।’
একই সমস্যার কথা জানিয়ে আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শরীফ মাহমুদ বলেন, বিশ্বাবিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে আমাদের পরীক্ষাগুলো নিতে পারে। আমরা সামনের দিনগুলোতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে যাচ্ছি। আমাদের অন্য বিভাগের বন্ধুরা ইতমধ্যে রেজাল্ট পেয়ে গেছে। কিন্তু আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এই সমস্যা সমাধানে পরীক্ষা নেয়ার বিকল্প কিছু নেই।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভাগগুলোকে একটি রুটিনের আওতায় এনে পরীক্ষাগুলো নেয়া যেতে পারে। এতে আসন্ন সমস্যা কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ০৭ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষা অনলাইনে শেষ করার ঘোষণা দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ঘোষণা দিলেও এসবের কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করছে না কর্তৃপক্ষ। আটকে থাকা পরীক্ষা নিয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তাঁরা।
আটকে থাকা পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এম এ বারী বলেন, সারা বিশ্বে করোনা মহামারি চলছে এসময়ে পরীক্ষা নেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকারী ঘোষণা এলেই কেবল এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। তাছাড়া, যেসব শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে সীমিত পরিসরে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ভোগান্তির শিকার না হয়। যদি স্বাস্থবিধি মেনে তাদের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। আগামী ২৭ তারিখ একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভা রয়েছে সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হবার কথা। আশা করছি তারপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দকুমার সাহা বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই তাদের পরীক্ষা শেষ হোক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) যদি নির্দেশনা দেয় তাহলে সে অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নেব। এছাড়াও আসন্ন একাডেমিক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ