রাবি শিক্ষক জলির ‘আত্মহত্যা’ || চার্জশিট হলেও হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আক্তার জাহান জলির ‘আত্মহত্যা’ প্ররোচণার মামলার এক বছরেও কোন অগ্রগতি হয়নি। গত মাসে আকতার জাহানের সহকর্মী আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট হলেও প্রাক্তন স্বামী তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য করা কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের আবাসিক কক্ষের দরজা ভেঙে সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সেই কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধারের পর শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ওই ঘরে তল্লাশি চালানোর সময় কীটনাশকের বোতল ও টেবিলে ল্যাপটপের নিচে চাপা দেয়া একটি চিরকুট পায় পুলিশ।
চিরকুটে লেখা ছিলো, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম। সোয়াদকে (আকতার জাহানের ছেলে) যেন ওর বাবা কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে যে কোনো সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে।’ মৃতদেহ ঢাকায় না পাঠিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিতেও অনুরোধ করা হয়েছিল ওই চিরকুটে।
এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে জলির ছোট ভাই কামরুল হাসান বাদি হয়ে পরের দিনই আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ৪ নভেম্বর আকতার জাহান জলির আত্মহত্যার ঘটনায় তার সহকর্মী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমানকে প্ররোচণার দায়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৫ নভেম্বর বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
সে সময় পুলিশ দাবি করে, ‘আকতার জাহানের সঙ্গে আতিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আকতার জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। আতিকুর রহমান চাইলেই তাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারতেন।’ গ্রেফতার থাকায় গত ২৯ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে গত ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টে শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিনের আদেশ দেন।
জানতে চাইলে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক ব্রজ গোপাল জানান, মামলাটির তদন্ত শেষে গত মাসে আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি এখন বিচারাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষক আকতার জাহানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার প্রাক্তন স্বামী এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠতে থাকে। ওইসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ^বিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৪৭০তম সভায় তানভীর আহমদকে বিশেষ ছুটি দেয়া হয়। সেই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করার জন্য পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিমা জোহরা হাবিব ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসিম রেজা। তাদেরকে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ করা হয়েছিল। কমিটি যতদিন পর্যন্ত তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়, ততদিন তাঁকে ছুটিতে থাকতে হবে। তবে তিনি বেতন পাবেন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে তার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু তদন্ত কমিটি এখনো তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
তবে কমিটির প্রধান অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলছেন, তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। আগামী মাসেই তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ