রাবি শিক্ষক তানভীরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০১৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ অভিযোগ দিয়েছেন ওই ছাত্রী। গতকাল বুধবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অধ্যাপক তানভীর আহমদ একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক স্বামী। আকতার জাহানের ‘আত্মহত্যা’র ঘটনায় তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে প্ররোচণার অভিযোগ করেছেন বিভাগের শিক্ষকরা।
সম্প্রতি অধ্যাপক তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ছাত্রী বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসিকে জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন তানভীর আহমদ। এরপর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ধারণ করে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল করেছেন তাকে। ওই ছাত্রী বলেন, ‘ওনার (তানভীর আহমদ) সঙ্গে আমি রিলেশনে ইনভলব হয়েছিলাম। কিন্তু আমি মেনে নিতে পারি নি। তখন তিনি ব্লাকমেইল করা শুরু করেন, রিলেশনে আসতে হবে নইলে ছাত্রলীগের ছেলেপেলেকে দিয়ে দেবো,  তোমার ফ্যামিলির কাছে পাঠিয়ে দেবো।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘এ সংক্রান্ত বিষয় তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা সব বিষয় খতিয়ে দেখবে।’
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন থেকে নিজ কক্ষের দরজা ভেঙে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের (৪৫) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার ছোট ভাই মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তানভীর আহমদের সঙ্গে আকতার জাহানের চার বছর আগে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়।
শিক্ষক আকতার জাহানের ‘আত্মহত্যা’র ঘটনায় বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসে তার সাবেক স্বামী তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে আকতার জাহানকে মানসিক নির্যাতন ও প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ আনেন। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবের তার বিরুদ্ধে লিখিতও অভিযোগও দেন বিভাগের সভাপতির কাছে। তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে তাকে বিভাগের কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া তানভীর আহমদ ও আকতার জাহানের একমাত্র সন্তান সোয়াদ ফেসবুকের স্ট্যাটাসে বাবা তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে তার গলায় ছুরি ধরার ও মাকে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তানভীর আহমদ বলেন, ‘প্রশাসনকে যদি অভিযোগ দিয়ে থাকে ভিসি স্যার আমাকে শোকজ করবে। আমি তখন তার জবাব দেবো।’
এদিকে গত ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ অভিযোগ কমিটিকে শিক্ষক আকতার জাহানের ‘আত্মহত্যার’ ঘটনায় অধ্যাপক তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।
অভিযোগ কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘কিছুদিন আগে কমিটি পূনর্গঠন করে আমাদের দায়িত্ব দেয়া হয়। সামনে প্রশাসনের সঙ্গে কমিটির মিটিং আছে। মিটিংয়ের পর তদন্ত কাজ শুরু হবে।’