রাবি শিক্ষার্থীদের বিমার আওতায় নেয়া হচ্ছে

আপডেট: জুন ২৩, ২০২২, ১০:২২ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিনিধি:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিমা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বিমার প্রিমিয়াম, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা থেকে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তি, ক্লিয়ারিং পদ্ধতি সব কিছু মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এটা পাস হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী মাসের শুরুতে এর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০৭তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন পায় শিক্ষার্থীদের বিমা পরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

৬ সদস্য বিশিষ্ট সে কমিটিতে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, কোষাধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সায়েদুজ্জামান মিলন, একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ এইচএম আসলাম হোসেন। কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার্থী প্রতি বছরে ২৫০ টাকা প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার বিষয়টি মাথায় রেখে ২৭০ টাকার প্রস্তাবিত পরিমাণ থেকে কমিয়ে ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বছরের শুরুতেই ভর্তির ফি’র সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এককালীন প্রিমিয়াম জমা নেয়ার পরিকল্পনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর বিনিময়ে জীবন বিমার আওতায় থাকা কোনো শিক্ষার্থী মারা গেলে তার পরিবার এককালীন সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পাবেন।

আর স্বাস্থ্যবিমার আওতায় কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিমা সুবিধা পাবেন। আবার বিমার আওতায় থাকা অসুস্থ হওয়া কোনো শিক্ষার্থী যদি হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চিকিৎসা নেয় সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিমা সুবিধা পাবেন।

এক্ষেত্রে এক দিনের চিকিৎসা ব্যয় ২০ হাজার হলেও ক্লেইম করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। তবে এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, হাসপাতালের বিলের কাগজপত্র অথবা ভাউচার জমা দিতে হবে। বিমা সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যক্রম চালাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা একটি দপ্তর চালু করা হবে।

শিক্ষার্থীদের যেন বিমার সুবিধা পেতে কোম্পানির কাছে ধরণা দিতে না হয়, সেজন্য একটি দপ্তর থেকে পরিচালনা করা হবে এ সম্পর্কিত কার্যক্রম। তবে ডিজিটালি করা যাবে সব কিছু। সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানিকে বিমার প্রিমিয়াম জমা দেওয়া থেকে শুরু করে বিমা দাবি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীরা অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে বিমা সুবিধা পেতে জটিলতা কমবে শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সায়েদুজ্জামান মিলন বলেন, পুরো কার্যক্রম আমরা ডিজিটাল করেছি যেন শিক্ষার্থীরা বিমা ক্লেইম করতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়। এ ব্যাপারে আমরা খুবই শক্ত অবস্থানে ছিলাম। প্রায় ৯টা কোম্পানি যুক্ত হতে আবেদন করেছিল। আমরা যাচাই-বাছাই শেষ একটাকে সুযোগ দিয়েছি।

বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য যখন বিমা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তখন এটা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত, পরবর্তী সিন্ডিকেটে এটা পাস হবে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, দুর্ঘটনা অথবা অসুস্থতার কথা আমরা কেউ বলতে পারি না। বড় ধরনের দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের যেন ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সেই দিক বিবেচনা করে আমরা সকল শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছি। আমাদের কার্যক্রম চলছে, কিছুদিনের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা এর সুবিধা পেতে থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ