রাবি শিক্ষার্থীদের মহৎ উদ্যোগ || দুর্গত মানুষের পাশে সবাইকে দাঁড়াতে হবে

আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০১৭, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

বন্যার্তদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের তিনটি বর্ষের সমাপনী উপলক্ষে ক্লাস পার্টির জন্য তোলা সব অর্থ তারা দান করে দিয়েছেন সরকারের ত্রাণ তহবিলে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীদের মতো সবাইকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ সরকারের পক্ষে এককভাবে দূর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দূর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য এগিয়ে এসেছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আর্থিক অনুদান তুলে দিয়েছেন। এখনও যেসব বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেনি। তারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান।
দেশে বন্যায় ২৭ জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজারেরও বেশি পরিবার। অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার কয়েক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। তিন হাজারেরও বেশি স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অধিকাংশ বন্যা দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। পানিবন্দি অনেক মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে শেষ সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটেছেন। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে রেলের জায়গা, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন।
অনেক এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে। এটা অনেকটা বড় স্বস্তির। বন্যা দুর্গতদের সাহায্যার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাব রয়েছে। বন্যার্ত মানুষের সবচেয়ে বড় চাহিদা হচ্ছে খাদ্যদ্রব্য ও বিশুদ্ধ পানি। শুধু আশ্রয়কেন্দ্র নয়, পানিবন্দী হয়ে নিজেদের বাসা-বাড়িতে যারা আটকা পড়েছেন তাদেরও জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। অনেক স্থানে স্যানিটেশন বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় ত্রাণ নিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে জরুরি। এই সময়ে শুকনো খাবার, স্যালাইন, বিশুদ্ধ খাবার পানি, হাত ধোয়ার সাবানসহ জীবনরক্ষাকারী ওষুধপত্রের প্রয়োজন হয়। বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের কাছে জরুরি ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বন্যার্ত মানুষের সাহায্যার্থে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো আমাদের সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় যেতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ