রাবি শিক্ষার্থীর রগ কাটার চেষ্টা! প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০১৯, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাবি প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা-সোনার দেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর থেকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে তার মাথায় আঘাত করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার রগ কাটার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিচিতরা। গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ হবিবুর রহমান মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত পৌনে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের আশ^াসে রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা এই অবরোধ স্থগিত করে। এসময় প্রক্টর লুৎফর রহমান শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার এবং এই ঘটনায় জড়িতদের চিহিৃত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার আশ^াস দেন।
জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীর নাম ফিরোজ আনাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিয়ে গেলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যান সহপাঠীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহিদ হবিবুর রহমান মাঠের দক্ষিণ পাশে তালগাছের কাছ থেকে একটি মেয়ের চিৎকার শুনে কয়েকজন এগিয়ে যান। গিয়ে দেখেন ফিরোজের মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। এ সময় একটা মোটরসাইকেল মাদার বখশ হলের দিকে দ্রুত চলে যায়। তারাই ফিরোজকে আঘাত করেন বলে সঙ্গে থাকা মেয়েটি জানান।
তারা আরও বলেন, সঙ্গে থাকা মেয়েটির সঙ্গে কথা বললে মেয়েটি জানান, তাদের বিয়ে হয়েছে। মেয়েটির বাড়ি রংপুর জেলায়। তারা একই কলেজে পড়াশোনা করেছেন। শুক্রবার তারা ঘুরতে বের হয়েছিলেন বলে দাবি করেন মেয়েটি। তবে কে বা কারা মেরেছে বলতে পারেননি তিনি।
অর্থনীতি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ফিরোজ তার বান্ধবীকে হলে এগিয়ে দিতে যাচ্ছিল। হবিবুর রহমান তাকে হলে এগিয়ে দিতে গেলে মোটরসাইকেলে আরোহীরা তাদের মাঠে নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে মোবাইল বা টাকা-পয়সা দাবি করে। কিন্তু টাকা দিতে না পারলে তখন তারা মাথায় আঘাত করে সটকে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ফিরোজকে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওটিতে নেয়া হয়েছে। মাথায় সেলাই দেয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ছেলেটিকে রামেকে নেয়া হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি বহিরাগত না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী করেছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে তারা ছিনতাই করতে আসেনি। ছিনতাই করলে তারা টাকা-পয়সা কেড়ে নিত। কিন্তু তারা তা করেনি।
তিনি বলেন, ছেলেটির মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তবে কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি কোনো ধরনের প্রমাণ পায় তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
এদিকে রাতের এ ঘটনায় নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে রাত সাড়ে ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া মাসুদ মোন্নাফ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটছে ক্যাম্পাসেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। জানতে পেরেছি ওই শিক্ষার্থীর রগ কাটার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, হামলাকারী বহিরাগত হোক বা ক্যাম্পাসের হোক বা কোনো ছাত্র সংগঠনের হোক, দোষীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ