রাবি শিক্ষার্থী হত্যা রুমমেট ও ২ নিরাপত্তা প্রহরীকে নিয়ে তদন্ত এগুচ্ছে

আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০১৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর হত্যার রহস্য উদঘাটনে তার রুমমেট ও হলের দুইজন নিরাপত্তা প্রহরীকে নিয়ে নিয়ে তদন্ত এগুচ্ছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ঘটনার ক্লু পাওয়ার জোরালো ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ ও হল সূত্রে জানা যায়, লিপুর লাশ উদ্ধারের পর তার রুমমেট মনিরুল ইসলাম, হলের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. মনির ও সাইদুর রহমান এবং লিপুর বন্ধু প্রদীপকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন শুক্রবার সকালে বাকি তিনজনকে ছেড়ে দিলেও লিপুর রুমমেটকে এখনো ছেড়ে দেয়া হয় নি। লিপুর বাবা জানিয়েছেন রুমমেটের সঙ্গে লিপুর ভালো সম্পর্ক ছিল না।
এদিকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ওই দুই নিরাপত্তা প্রহরীকে আবার থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। রুমমেট ও দুই নিরাপত্তা প্রহরীকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
নবাব আবদুল লতিফ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, শুক্রবার রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মনিরুল ইসলামের রুমে আসে। সেখান থেকে মনিরুলের ল্যাপটপ ও একটি নষ্ট মোবাইল উদ্ধার করা হয়। ওই মোবাইলে একটি সিম আছে। আর ল্যাপটপে তথ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই শিক্ষার্থী জানান, লিপুর লাশ উদ্ধারের পর লিপুর একটি স্যান্ডেল তার রুমের ভেতরে এবং আরেকটি লাশ উদ্ধারের জায়গায় পাওয়া যায়। আর রুমের সামনে দুইজোড়া জুতা পাওয়া যায়। যা লিপু বা তার রুমমেটের নয়। এতে ধারণা করা হচ্ছে রুমের মধ্যে অথবা রুমের সামনে কিছু একটা ঘটেছিল।
এদিকে লিপুর বাবা বদর উদ্দিন জানিয়েছেন রুমমেট মনিরুল ইসলামের সঙ্গে লিপুর ভালো সম্পর্ক ছিল না। তিনি মুঠোফোনে জানান, এক রুমে থাকলেও লিপুর সঙ্গে তার রুমমেটের খুব কম কথা হতো। লিপুর মা বলেছেন, তাদের দুজনের মধ্যে সম্প্রতি কথা বন্ধ হয়েছিল। তিনি লিপুর রুমমেট মনিরুলের সঙ্গে কথা বলে ঠিকঠাক করে দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু মনিরুল কথা বলতে চায় নি। তবে কি কারণে তাদের মধ্যে কথা বন্ধ হয়েছিল তা জানেন না লিপুর মা।
লিপুর বাবা আরো জানান, প্রক্সি পরীক্ষায় নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে কেউ লিপুকে হুমকি দিয়েছিল এমন কিছু জানে না তার মা। লিপুর সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লিপু হত্যার রহস্য উদঘাটনে খুব গুরুত্বসহকারে তদন্ত চালানো হচ্ছে। লাশ উদ্ধারের পর থেকে র‌্যাব, পুলিশ ও সিআইডির কর্মকর্তরা হলে তল্লাশি ও বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে বেশ কয়েকজন র‌্যাব সদস্য হলে গিয়ে বিভিন্ন কক্ষের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। লাশ উদ্ধারের স্থান ও লিপুর রুম বারবার পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।
নগররি মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তার (লিপু) রুমমেটকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তার ল্যাপটপ, মোবাইল আমাদের কাছে আছে। সেগুলো নিয়ে তদন্ত করা হবে।’ দুই নিরাপত্তা প্রহরীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের আবার থানায় আনা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘হত্যাকা-ের ঘটনা তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। পুলিশের হেড কোয়ার্টার থেকে তদন্তের তদারকি করা হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে নবাব আব্দুল লতিফ হলের ডায়নিংয়ের পাশের ড্রেন থেকে মোতালেব হোসেন লিপুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।