রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র || সব বিতর্কের অবসান হোক

আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশবাদীরা যে অভিযোগ করে আসছিলেন তার আর যথার্থতা রইল নাÑ কেননা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি সুন্দরবনের প্রান্তসীমায় ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে তাদের আগের আপত্তি তুলে নিয়েছে। পোল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪১তম অধিবেশনে দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে এই কমিটি প্রয়োজনীয় উপশমমূলক পদেক্ষপ গ্রহণসহ বর্তমান জায়গায় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। ইউনেস্কোর এই সিদ্ধান্তের ফলে সব ুিবতর্কের অবসান এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের ক্ষেত্রে আর কোনো বিরোধিতার অবকাশ রইল না বলেই আশা করা হচ্ছে।
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতাকারীরা বলে আসছে যে,, এটি হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সঙ্কটে পড়বে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুন্দরবনের ক্ষতি না করেই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে।
নিজেদের ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য নিয়ে এই পাল্টপাল্টি অবস্থানের মধ্যে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকেও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গত বছর চিঠি দেয়া হয় সরকারকে। সরকার সেই চিঠির জবাবও দেয়।
১৯৯৭ সালে সুন্দরবন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত হয়। রামপাল নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর একটি দল সরেজমিন পরিদর্শনে বাংলাদেশে এসেছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ আলোচনার পর হেরিটেজ কমিটি যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে সুন্দরবনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব এড়িয়ে বাংলাদেশ সরকার পরিকল্পিত স্থান রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে অনুমোদন করেছে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায় ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ যে কতিপয় পদক্ষেপ নিয়েছে কমিটির সিদ্ধান্তে তাকেও স্বাগত জানানো হয়েছে।
কমিটির অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটা ট্র্যাটেজিক এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্টের (এসইএ) উদ্যোগ গ্রহণে সম্মত হয়েছে।
ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির এই সিদ্ধান্তের সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, ওই কমিটি যে সব পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তা যথাযথভাবে মেনেই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। কিন্তু বিএনপি রাজনৈতিকভাবে এখনো তারা তাদের পূর্বের অবস্থানে আছে। পরিবেশবাদীরা অবশ্য এখনো এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেন নি। আমরা আশা করবো শুধু বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা না করে সাধারণের কাছে সঠিক তথ্যই উপস্থাপন করা উচিৎ হবে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে শুধু উন্নয়ন কর্মকা- বিঘিœত হয় না, এক পর্যায়ে বিরোধিতাকারীদেরও ভাবমূর্তি ও তাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে পরিবেশবাদীদের আন্দোলন তেমনি প্রশ্নের সম্মুখিন হয়েছে। বরং সরকারের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছিল তা-ই গ্রহযোগ্যতা লাভ করলো। সব বিতর্কের অবসান হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ