রামেক শহিদ কাজী নুরুন্নবী ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা ।। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলেন লিটন

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রামেক অধ্যক্ষ ও উপাধ্যাক্ষের সঙ্গে বৈঠকে নগর আ’লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ নেতৃবৃর্দ- সোনার দেশ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) শহিদ কাজী নুরুন্নবী ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্রাবাসটি বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ছাড়ারও নির্দেশ দেয়া হয়।
গতকাল বিকেলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা, আনোয়ার হাবিব প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার শহিদ কাজী নুরুন্নবী ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় রাষ্ট্রবিরোধী লিফলেট, জিহাদি বই, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ফলে ছাত্রাবাসটিতে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখিন। একারণে ছাত্রাবাসটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল দুপুরে রামেক অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মীর ইকবাল, নওশের আরী, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, উপপ্রচার সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমনসহ নেতৃবৃন্দ। এসময় রামেক অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে ঊদ্বুত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
অপরদিকে গতকাল দুপুরে রামেক ক্যাম্পাসে আবারো ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এর ফলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রামেকের এই ছাত্রাবাসটি ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘মেইন’ ছাত্রাবাস নামে পরিচিত। এই ছাত্রাবাসটি ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল নিয়ন্ত্রিত। এ ছাত্রাবাসে ১২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকেন। শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রাবাসটির নাম ‘শহিদ কাজী নূর-উন-নবী’ ব্যবহার না করে ‘মেইন’ ছাত্রাবাস বলে উল্লেখ করেন।
এই ছাত্রাবাসটিকে শিবিরের বড় ‘আস্তানা’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। মহানগরীর শিবিরের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকও হতো এখানে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষের পর এই ছাত্রাবাস থেকে পুলিশ শিবিরের লিফলেট, বই ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এরপরই ছাত্রাবাসটি বন্ধ ঘোষণা করলো কলেজ কর্তৃপক্ষ।
রামেকের উপাধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, বৃহস্পতিবারের রাতের ঘটনার পর পুলিশ ছাত্রাবাসটি থেকে ‘দেশবিরোধী’ কর্মকাণ্ড পরিচালনার লিফলেট ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে। তাই সাধারণ ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ছাত্রাবাসটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত ছাত্রাবাসটি বন্ধ থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে রামেক ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় ছাত্রশিবির কর্মীরা চার রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেন। পরে অভিযান চালিয়ে শিবিরের মোট পাঁচ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আর শহিদ কাজী নূর-উন-নবী ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করা হয় শিবিরের লিফলেট ও ধারালো অস্ত্র।
এরপর শনিবার দুপুরে ক্যাম্পাসে আবার ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এর ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিবিরের নেতাকর্মীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা থাকায় এখনও পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা তদন্তে শনিবার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রামেকের প্রফেসর ডা. মোসাদ্দেক হোসেনকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে ১০ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
রামেকের উপাধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে শহিদ কাজী নূর-উন-নবী ছাত্রাবাস আবার খুলবে কী না। তবে রামেকের অপর একটি ছাত্রাবাস এবং তিনটি ছাত্রীনিবাস আগের মতোই খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন উপাধ্যক্ষ।