রামেক হাসপাতালের অব্যবস্থা || নিয়মের তোয়াক্কা করে না ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সোমবার বেলা ১১ টা, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ। প্রতিটি ওয়ার্ডেই চিকিৎসকদের চেম্বার থেকে রোগী বের হলে রোগী ও স্বজনদের ঘিরে ফোনে ছবি তুলছেন একদল লোক। এতে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী-স্বজন ও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা।
রোগী-স্বজন ও চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হাসপাতালের কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা করেন না এ সব ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। হাসপাতালের নিয়ম মতে সপ্তাহের দুইদিন সোমবার ও বুধবার বেলা সাড়ে বারোটা হতে ২ টা পর্যন্ত তারা চিকিৎসকের চেম্বারে যেতে পারেন। কিন্তু সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৯ টা হতে দুপুর ২ টা পর্যন্ত হাসপাতালের সর্বত্রই তাদের বিচরণ। বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে তারা নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এনিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা লক্ষ করা যায়নি। হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরেই প্রায় দুই শতাধিক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তাদের সহযোগিতা করছে হাসপাতালের অসাধু কিছু আনসার সদস্য ও কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও আনসার সদস্যদের যোগসাজসে প্রতিনিধিরা নির্বিঘ্নে কাজ করছেন। রোগী-স্বজনরা জানান, এক- দুই জন হলে হয়, ১৫ থেকে ২০ জন এক সাথে ঘিরে ছবি তুলে। মাঝে মাঝে ব্যবস্থাপত্র ছিঁড়েও যায়। সবার ছবি তোলা শেষ হলে ব্যবস্থাপত্র ছাড়ে।
চিকিৎসকগণ জানান, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেয়া নিয়মের মধ্যে বারবার আসতে বলার পরেও তারা খতা শুনেন না। ওই প্রতিনিধিরা জানান, চাকরি বাঁচাতে তাদের সর্বক্ষণ চিকিৎকদের সাথে যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলতে হয়। এখানে সর্বক্ষণ প্রতিযোগিতা, তাই সকলে চাকরি রক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেয়া নিয়ম মানতে পারেন না।
অন্যদিকে হাসপাতালের তিনগুন বেশি রোগী-স্বজন ও দালালরা হাসপাতালের ভেতরে থাকায় সঠিকভাবে হাসপাতালের শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে সব সময় সমস্যা লেগেই আছে। বহির্বিভাগের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন মাহাবুবা খাতুন জানান, মাঝে মাঝেই পরিবারের কারো সমস্যা হলে হাসপাতালে আসতে হয়। কিন্তু হাসপাতালে এতো দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি থাকে যে, এদের কারণে হাসপাতালে আসতে ইচ্ছে করে না। চিকিৎসকদের কাছে রোগী দেখানোর পরেই এরা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানা হেঁচড়া করে।
শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে আসা রেজাউল ইসলাম বলেন, ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে দেখানোর পরে বের হওয়া মাত্রই তারা ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলে। সকল প্রতিনিধির ছবি তুলতে সময় ব্যয় হয়। অস্বস্তি লাগে। এই এসব বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দূর করা উচিৎ।
রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানান, আমাদের নিয়ম করা আছে সপ্তাহে দুইদিন সাড়ে বারোটার পরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা আসতে পারবেন। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ভেতরে থাকেন। আমরা তাদের সব সময় বলছি, মাঝে মাঝে অনেককে পরিচালকের চেম্বারে এসে বুঝিয়ে বলা হয়। তাদের ব্যাপারে নতুন করে উদ্যোগ নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ