রামেক হাসপাতালে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



সড়ক দুঘটনায় আহত হয়ে প্রায় এক মাস আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পাবনা সদর থানার রাঘবপুর এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম (২৮)। ভর্তি আছেন হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে। গতকাল রোববার দুপুরে তার সঙ্গে ওয়ার্ডের সামনে কথা হয়
আশরাফুল বলেন, ‘কাল থেকে ছোট ডাক্তাররা (ইন্টার্নরা) আসেনি। বড় ডাক্তার একজন এসেছিল। একবার দেখে গেছে। তারপর খবর নাই। এতো বড় ওয়ার্ড! সব রোগির কাছে একবার করে গেলেও তো দিন শেষ! কিন্তু পায়ের ব্যথাটাও বেড়েছে। নতুন ওষুধ-টষুধ লাগবে কী না তা জানার জন্যও কাউকে পাচ্ছি না।’
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঞ্চনগ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেনও (৬০) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বেশকিছু দিন আগে। তিনি বলেন, ‘এ রকম অবস্থা কোনো দিন দেখিনি। ডাক্তার নাই, নার্স নাই, ওষুধ নাই, পানি নাই! একা একা শুধু পড়ে আছি। কাল থেকে এভাবেই যাচ্ছে।’
ভর্তি থেকেও চিকিৎসা না হওয়ায় জেলার বাগমারা উপজেলার বীরকয়া গ্রামের বৃদ্ধ হারান উদ্দীনকে (৭০) হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার স্বজনরা। জরুরি বিভাগের সামনে নাতি ইকবাল হোসেন (২৫) জানালেন, ওয়ার্ডে থাকলে রোগির ধুকে ধুকে মৃত্যু দেখতে হবে। কাল থেকে ইন্টার্নরা ওয়ার্ডে যাননি। একজন চিকিৎসককে ওয়ার্ডে পাওয়া গেলেও তিনি সব রোগিকে সময় দিতে পারছেন না। তাই রোগি নিয়ে ক্লিনিকের পথ ধরেছেন তারা।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার ইন্টার্ন চিকিৎসককে শাস্তি দেয়ার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে রামেক হাসপতালের ইন্টার্নরাও কর্মবিরতিতে গেছেন। এ অবস্থায় গতকাল রোববার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবার এমন চিত্র দেখা গেছে। ইন্টার্নরা চিকিৎসাসেবা না দেবার কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
রামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের মুখপাত্র রায়হান শরীফ জানান, শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি আগামিকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চলবে। এই সময়ের মধ্যে তাদের দাবিগুলো মেনে নিলে তারা কাজে ফিরবেন। তা না হলে সংগঠনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মবিরতি আরও বাড়তে পারে।
রোগির স্বজনরা বলেছেন, ইন্টার্নরা না থাকায় ওয়ার্ডে একজন করে অতিরিক্ত চিকিৎসক পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই চিকিৎসক সব রোগিকে সময় দিতে পারছেন না। ফলে চিকিৎসার অভাবে ধুকছেন রোগিরা। রোগির স্বজনরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এ অবস্থায় অনেকেই রোগির ছুটি নিয়ে চলে যাচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে।
তবে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলামের দাবি, ইন্টার্নরা না থাকলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রায় এক হাজার ৮০০ রোগির চিকিৎসার কোনো ত্রুটি হচ্ছে না। তিনি বলেন, ইন্টার্নদের কর্মবিরতির কারণে সিনিয়র চিকিৎসকের পাশাপাশি রেজিস্ট্রার ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি হচ্ছে না।
ইন্টার্নদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করাতে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কী না জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, ‘না, এটা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা সংগঠনের কর্মসূচি। এটি রাজশাহী থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় না। তাই আমরা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তবে চিকিৎসার যেন কোনো ত্রুটি না হয়, আমরা সে দিকটি মাথায় রেখে কাজ করছি।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ