রামেক হাসপাতালে এক বছরে সর্প দংশনে ৫৩ জন রোগীর মৃত্যু সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

সাপ নিয়ে মানুষের ভীতি, আতঙ্ক ও কৌতূহলের শেষ নেই। কাল্পনিক নাগ-নাগিনির গল্প, সাহিত্য ও সিনেমার কাহিনী এখনো মানুষের মন-মননে গেঁথে রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এখনো সাপে কামড়ালে মেডিকেলে না নিয়ে আগে ওঝা কিংবা করিবাজের দ্বারস্ত হওয়ার মতো বস্তাবতা রয়েই গেছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান গ্রামের সাধারণ মানুষের খুব কমই আছে। প্রচারণাও যথেষ্ট ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। তাই সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে আরও সোচ্চার হতে হবে।
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৫ম আন্তজাতিক সর্প দংশন সচেতনতা দিবস উদপাপন করেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। হাসপাতালের তথ্য বলছে, গত এক বছরে সর্প দংশনে রামেকে ভর্তি রোগীর ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। কোবরা, কেউটের দংশনে ৪৩ জন এবং রাসেল ভাইপারের দংশনে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে মোট ৫৮৭ জন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এদের মধ্যে কোবরা, কেউটে দংশন নিয়ে ১৪১ জন এবং রাসেল ভাইপারের দংশন নিয়ে ৩৭ জন ভর্তি হন। বাকিগুলো তুলনামূলক কম বিষধর সাপের দংশনের শিকার হয়।
এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজশাহীতে বিষধর সাপের উৎপাত নিতান্তই কম নয়। রাসেল ভাইপার ও কোবরার মতো সাপ রাজশাহী জুড়ে বসবাস করছে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে যেমন সাপ হত্যার করছে। অন্যদিকে, বিষধর সাপের দংশনে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এ বিষয়ে বন্য প্রাণি সম্পদ, বন বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
কেননা রাজশাহীতে যখন অধিকাংশ সাপে কাটা রোগীই গ্রামাঞ্চল থেকে আসছেন। দেরিতে রামেক হাসপাতালে পৌঁছার কারণে মারাও যাচ্ছেন গ্রামের রোগীরা। অথচ এখনো উপজেলা পর্যায়ে এন্টিভেনামের ব্যবস্থা করা হয় নি।
এদিকে, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের আয়োজনে ৫ম আন্তজাতিক সর্প দংশন সচেতনতা দিবসের আলোচনায় রামেক কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী, মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. খলিলুর রহমান, মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা.আবু শাহীনসহ অন্যান্য বক্তারা ‘সর্প দংশন ক্লিনিক’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার চিত্রও তুলে ধরেছেন। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় এ সকল বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সর্প দংশনে মৃত্যুর হার কমাতে এখনোই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ