রামেক হাসপাতালে করোনায় ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু সংক্রামণের সার্বিক বিষয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ

আপডেট: মে ৮, ২০২১, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


করোনাভাইরাসে আক্রান্তে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতো অল্প বয়সে দেশে শিশুর মৃত্যু এই প্রথম। এতে নতুন কোন সংক্রামণ আসছে কিনা তার সার্বিক বিষয়ে রামেক কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের দেখতে বলেছেন।
বৃহস্পতিবার (০৬ মে) শিশুটির মৃত্যু গতকাল শনিবার (০৮ মে) তা প্রকাশ পায়। হাসপাতাল সূত্রে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের সাথে কথা আরো জানা যায়, এই অল্প বয়সে শিশুরটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রথম শিশুটির কিডনীর সমস্যাটা মূল বিষয়ে দেখা যাচ্ছে। কারণ করোনায় সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে আছে যাদের বয়স বেশি, যাদের ডায়াবেটিক, কিডনী, লিভার ও ফ্যাট বেশি মানুষরা। তবে বিশ্বের অনেক দেশে ছোট বাচ্চা মারা যাওয়ার ঘটনা আছে। তবে দেশে এই প্রথম ছোটদের মধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে রাজশাহীতে।
শিশুটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল বলে জানিয়েছেন, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস। মৃত শিশুটির নাম তাওহিদ (৯)। সে রাজশাহী নগরীর মালদা কলোনীর হুমায়ুন কবিরের ছেলে। শিশুটি করোনায় মারা যাওয়ার বিষয়টি শনিবার বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা শিশুটির চিকিৎসায় অবহেলারও অভিযোগ তুলেন। ঘটনাটি গতকাল শনিবার প্রকাশ পায়। পরে এই শিশুর মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে রামেক কর্তৃপক্ষ। এতো অল্প বয়সে করোনায় মারা যাওয়ার কারোনার কোন নতুন সংক্রামণ আছে কিনা সে বিষয়ে বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে বলা হচ্ছে চিকিৎসকদেরকে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনার উপসর্গ দেখা দিলে গত ২৬ এপ্রিল নমুনা দিয়ে দেয় শিশুটি। ওই দিন তার নমুনা পরীক্ষা করে করোনা পজেটিভ আসে। পরের দিন শিশুটিকে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত বুধবার তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায়। তার কিডনির সমস্যা ছিল বলেও জানান ডা. সাইফুল।
শিশুটির আত্মীয় ও রামেক হাসপাতালের সিনিয়র নার্স কোহিনুর বেগম জানান, কিডনির সমস্যার কারণে গত জানুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হলে দেড় মাস আগে তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। এর কিছুদিন পর থেকে জ্বরে ভুগছিল শিশুটি। ঢাকায় চিকিৎসার সময় চিকিৎসক বলেছিলেন শিশুটির কিডনী ৬০ শতাংশ সমস্যায় ছিলো। করোনার প্রকোপ বেশি হলে তাকে বাসায় থেকে সেবা নেয়ার বিষয়ে জানানো হয়। নাম না প্রকাশে শিশুটির এক আত্মীয় অভিযোগ করে বলেন, আইসিইউতে নেয়া হয়েছে শেষ মুহুর্তে। আরও আগে তাকে আইসিইউতে নেয়া প্রয়োজন ছিল।