রামেক হাসপাতালে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চালু || নতুন ওয়ার্ড ভাইরাস প্রতিরোধে প্রস্তুত চিকিৎসকরা

আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২০, ১:২০ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ


করোনা ভাইরাসের প্রস্তুতি ও সতর্কতার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে রামেক হাসপাতাল। এ জন্য হাসপাতালে খোলা হয়েছে নতুন ওয়ার্ড। হাসপাতালের ১৬ ও ১৭ নম্বর কেবিনে এখন ৫ টি বেড যুক্ত করা হয়েছে। এর মাঝে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ টি বেড ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২ টি বেড দিয়ে আক্রান্ত রোগিদের সেবা নিশ্চিতে প্রস্তুত আছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর এই ভাইরাসের উপরে নতুন ভাবে ট্রেনিং নিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা যাবেন ৩ জন চিকিৎসক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে সরকারি নির্দেশনায় করোনা ভাইরাসের সতকর্তার প্রস্তুতির জন্য আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেই মোতাবেক দুইটি কেবিনে এই ইউনিট খোলা হয়েছে। আর এই ইউনিটে হাসপাতালের সিনিয়র-জুনিয়র চিকিৎসকরা থাকবেন রোগিদের সেবা দিতে। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা হলে রোস্টার তৈরি করা হবে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোগিদের সেবা দেয়ার জন্য তারা আতঙ্কিত নয়। তবে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে তারা সঠিকভাবে সেবা দেবেন। রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুর রহমান খান বাদশা জানান, এটি সাধারণ একটি ভাইরাস রোগ। সর্দি, কাশি ও অন্যান্য কারণে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। তবে বাংলাদেশে এই ভাইরাস নিয়ে তেমনভাবে আতঙ্কিত নয় চিকিৎসকরা। কারণ ভাইরাসের সাধারণ একটি মৌসুম থাকে, মৌসুম শেষ হলে ভাইরাস মরে যায়। চিনে এখন ভাইরাসটি কিছুটা কমে যাচ্ছে। মৌসুম শেষ হলে সাধারণ এক মাসের মাথায় ভাইরাসটি তেমন ভাবে বিস্তার লাভ করতে পারে না, মরে যায়।
তিনি জানান, চিন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক দূরে। এখন কিছু মানুষ আক্রান্ত হলে ভারতে হতো। কারণ ভারত তাদের সীমান্ত রাষ্ট্র। ভারতে আক্রান্ত হলে বাংলাদেশের জন্য বেশি চিন্তিত হওয়ার কারণ থাকতো। কিন্তু বাংলাদেশের পেক্ষাপট এখন একটু ভিন্ন। তিনি আরো জানান, রাজশাহীর বিষয়ে তেমনভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবু রামেক হাসপাতাল এখন সকল প্রস্তুতি রয়েছে।
রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানান, এ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। বর্তমানে হাসপাতালের ১৭ ও ১৬ নম্বর কেবিনে ৫ টি বেড নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। আর হাসপাতালের আরপিকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঢাকাতে তিনজন চিকিৎসক এ বিষয়ে ট্রেনিংয়ের জন্য যাওয়ার কথা আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা রামেক হাসপাতালের ৩ জন চিকিৎসককে ঢাকাতে পাঠাবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ