রামেক হাসপাতালে মৃত্যুর মিছিলে আরো ১০ জন

আপডেট: জুন ২০, ২০২১, ৬:১৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মাত্র একজন করোনায় বাকি ৯ জনের করোনা উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২০ জুন) সকালে হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে করোনা রোগির সংখ্যা বাড়তেই আছে। করোনা ইউনিটে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরো একটি সাধারণ ওয়ার্ডকে কোভিড ওয়ার্ডে রূপান্তর করার কাজ চলছে। করোনা রোগিদের জন্য হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডটিতে এখন অক্সিজেন সরবরাহ লাইনের কাজ চলছে।
রামেক হাসপাতালের মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শনিবার (১৯ জুন) সকাল ৬টা থেকে রোববার (২০ জুন) সকাল ৬ টার মধ্যে বিভিন্ন সময় উল্লিখিত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রাজশাহী জেলার ৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ২ জন ও নওগাঁ জেলার ১ জন রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি মাসের ২০ দিনে (১ জুন সকাল ৬টা থেকে ২০ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ২০৩ জন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুনভাবে আরও ৫৪ জন রোগী করোনা উপসর্গ ও আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩৭৭ জন। আগের দিন ভর্তি ছিলেন ৩৬৫ জন। চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। অথচ সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পরও রয়েছে ৩০৯টি। আর আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ২০টি। এই ২০টি শয্যার বিপরীতে গড়ে ৭০ জন আইসিইউর জন্য অপেক্ষায় থাকছেন।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, করোনার প্রথম ঢেউ চলাকালে রামেক হাসপাতালে গড়ে সর্বোচ্চ ১৩৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকতেন। ইদুল ফিতরের আগে কমে সেটি ৭১ জনে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ইদের পর এখন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। তাই একের পর এক সাধারণ ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইসিইউ’র জন্য বাড়তি সুবিধাসম্পন্ন জায়গা দরকার। সেটা হাসপাতালে এই মুহূর্তে আর নেই। প্রথমে করোনার জন্য ১০টি আইসিইউ করা হলেও পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ২০টি করা হয়েছে। আর বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে রোগিদের জায়গা দেয়া সম্ভব না হওয়ায় আরো একটি সাধারণ ওয়ার্ডকে কোভিড ওয়ার্ডে রূপান্তরের কাজ চলছে। করোনা রোগীদের জন্য হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডটিতে এখন অক্সিজেন সরবরাহ লাইনের কাজ চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ