বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

রামেক হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে নবজাতকদের জন্য ৪০ বেড়ের স্পেশাল ইউনিট

আপডেট: December 15, 2019, 1:03 am

তারেক মাহমুদ


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ইউনিট-সোনার দেশ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক (০ থেকে ২৮ দিন) শিশুদের জন্য তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক ৪০ বেডের স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট। এই ইউনিটের প্রায় সিংহ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সরবরাহকৃত অক্সিজেন ও বিদ্যুৎ সঠিকভাবে স্থাপন হলেই চালু করা হবে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের এই ইউনিটটি। এই ইউনিট চালু হলে বেডের সঙ্কট সমাধানসহ নবজাতক শিশুদের সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা যাবে।
রামেক হাসপাতালের শিশুবিভাগের চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে নবজাতক শিশুদের বেডের সঙ্কট ছিলো ব্যাপক। হাসপাতালের চাহিদার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি শিশুরোগি নিয়ে সেবা দিতে হিমসিম খেতে হয়েছে। আবার শিশুদের এক সাথে চার-পাঁচজনকে একই বেডে রেখে সেবা দিতে হয়েছে। এজন্য একজন শিশুর ভাইরাসের ও ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা আরেক শিশু আক্রান্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময়ে এই পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়াও চিকিৎসকদের জন্য চ্যালেঞ্জের। শিশু বিভাগে তিনটি ইউনিট মিলে বেড় সংখ্যা ১২০ টি। কিন্তুরোগি ভর্তি হয় চারশতাধিক। কখনোবা এই সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ শতাধিক। এমন অবস্থায় প্রতিটি সময় চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেবা দিয়েছে কর্মরত চিকিৎসক-নার্সরা। প্রতিদিন বিভিন্ন অসুখ নিয়ে হাসপাতালে আক্রান্ত ছোট-বড় মিলে পাঁচ থেকে ছয় শিশু মারা যায়। এর মধ্যে নবজাতক শিশুর সংখ্যা বেশি। এদিকে কয়েকশ বাচ্চার বেড না থাকায় মেঝেসহ বাইরের বারান্দায় রাখতে হয় শিশুদের। স্ক্যানারের এই ইউনিট চালু হলে এই সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে। হাসপাতালে প্রতিদিন নবজাতক বাচ্চার সংখ্যা থাকে ১০০ টির মতো। এই অবস্থায় ৪০ বেড যুক্ত হলেও আরো দরকার হবে ৬০ টি বেড।
গত মঙ্গলবার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, বাচ্চাদের জন্য মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য কেএমসির আলাদা বেড। পাশেই থাকবে ল্যাব, এরপরে চেঞ্জিং ব্যবস্থা, এর পরেই প্রথম অবস্থায় থাকছে এনআইসিইউ এর ৭ টি বেড। যেখানে প্রথম অবস্থায় বাচ্চাদের রাখা হবে। পরে এই বেডের বাচ্চাদের রাখা হবে স্টেপ ডাইন বেডে। এখানে বেডের সংখ্যা থাকছে মোট ৯ টি। স্টেপ ডাউনের পরে আসবে সেপটিক এরিয়া বেড- এখানে বেড থাকবে মোট ১১ টি। সেপটিক বেডের পরে নন সেপটিক এরিয়া বেডে মোট বেড থাকবে ১৩ টি। এই বেডের কার্যক্রম প্রক্রিয়াটি শুরু হয় দেড় বছর আগে ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে। বর্তমানে ওয়ার্ডের ২৭ টি সরঞ্জাম বসানোর কাজ শেষ। আর ওয়ার্ডে সরবরাহকৃত অক্সিজেন, বিদ্যুৎ স্থাপন এবং ৯ টি এসি যুক্ত হলেই এই ইউনিটটি চালু করা হবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. বেলাল উদ্দিন জানান, বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার হাজারে ৩৮টি। এর মাঝে দুই তৃতীয়াংশ নবজাতক হচ্ছে কম ওজনের জন্ম নেয়া। এই বাচ্চাগুলো বেশিরভাগ সংক্রমণ হয়। যার মাঝে সেপ্টিসিমা হয়। এই বাচ্চাগুলোকে যদি আমরা আলাদাভাবে চিকিৎসা দিতে পারি তবে শিশু মৃত্যুর হার অনেক কমে যাবে। তাই বিশেষভাবে স্ক্যানের ব্যবস্থাপনা হচ্ছে রামেক হাসপাতালে।
তিনি আরো জানান, সেপ্টিসিমা, জন্ডিস এবং শ্বাসপ্রশাসে বাধাগ্রস্ত হওয়া এই তিনটাই হচ্ছে অত্যন্ত কম ওজনের বাচ্চার মৃত্যুর কারণ। রামেক হাসপাতালে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফের তত্ত্বাবধানে শিশু বিভাগে নতুন ৪০ শয্যা যুক্ত হতে যাচ্ছে। শুধু বিদ্যুৎ ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা হলে এর উদ্বোধন করা হবে। এটি হলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান আরো বাড়বে।
রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, বর্তমান সরকার ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় নতুন এই ইউনিটটি দ্রুতই চালু হবে। সকল কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু অক্সিজেন ও বিদ্যুতের কিছু কাজ আছে তা হলেই ইউনিটটি চালু করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ