রামেক হাসপাতালে রডের বদলে বাঁশ তদন্ত শুরু

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০১৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) নতুন ভবনের তৃতীয়তলায় লিফটের সামনে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি তদন্ত করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তারা সবকিছু পরীক্ষা করে দেখেন। পাঁচ সদস্যের ওই তদন্ত দলের নেতৃত্বে ছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কমিটির প্রধান হারুন-অর-রশিদ। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামেক হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন কমিটির সদস্যরা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির সদস্যরা রামেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. একেএম মনোয়ারুল ইসলাম ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও খোঁজ-খবর নেন তারা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর রামেক হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগ ও আগে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. মোসাদ্দেক হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ের ওই তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের সময় নতুন ভবন নির্মাণে রডের পরিবর্তে কেন বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এ জন্য মার্কস বিল্ডার্স নামে ঢাকার যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজটি করানো হয়েছে তাদের সম্পর্কেও তথ্য চেয়েছেন। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগকে শিগগিরই তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের নতুন ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা তদন্তে এর আগে গত ১ নভেম্বর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এতে হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের প্রধান ডা. মোসাদ্দেক হোসেনকে প্রধান করা হয়। ওই তদন্ত কমিটিতে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম ও তাদের একজন ভবন বিশেষজ্ঞকে রাখা হয়। পরদিন ২ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আরও একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ অক্টোবর রাতে রামেক হাসপাতাল নতুন ভবনের তৃতীয়তলার লিফটের সামনে টাইলসের নিচে প্রায় চার ইঞ্চি ফাঁকা জায়গায় বাঁশ দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়।
২০১২ সালের ১৭ জুলাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০০ শয্যার এই নতুন ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। এতে হাসপাতালের মোট শয্যা সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৩০টিতে। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩০ কোটি টাকা।