রামেক হাসপাতালে রোগির স্বজনদের সঙ্গে সাতমাসে সংঘর্ষ চারবার

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা অভিযোগ তো আছেই, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রোগির স্বজনদের মারধর করে পুলিশে দেয়া। রামেকের ইন্টার্নি ডাক্তারদের সঙ্গে গত এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে চারটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ, রোগির  স্বজনদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিচারের দাবিসহ রোগীদের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করা হয় এমন অভিযোগ ওঠে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাগুলো ঘটেছে রামেকের দুই, পাঁচ, আট ও তের নম্বর ওয়ার্ডে।
গত রোববার দুপুর দেড়টার দিকে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় পবা উপজেলার মদনহাট এলাকার মহসিন (৪৭) নামের এক রোগি। মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেই সময় ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছিলেন, রামেক ছাত্রলীগের সভাপতি ইন্টার্নি চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম অপু। এ ঘটনায় ইন্টার্নি চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম অপুর সঙ্গে রোগির স্বজনদের বাকবিত-া শুরু হয়। এর একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ মারধরের ঘটনায় নিহত মহসিন আলীর স্ত্রী রাহেলা বিবি (৫৫), দুই ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৫) ও আনারুল ইসলাম (২৫) আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ এসে তাদের দুই ভাইকে আহত অবস্থায় আটক করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এই বছরের ১৫ এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসকের অবহেলায় নগর শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ও নগরীর লক্ষ্মীপুর শাখা সোনালী ব্যাংকে কর্মরত ব্যাংকের সিবিএ নেতা মোশাররফ হোসেন আলোর (৬০) মৃত্যুর অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদেন মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা হাসপাতালের প্রধান ফটকে এসে বিক্ষোভ ও ভাঙটুর করেন। পরে মৃত শ্রমিক লীগ নেতার স্বজনদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ারও ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ইন্টানী ডাক্তরা কর্মবিরতি পালন করেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তার স্বজনরা দাবি করেন, দুপুর ১টার দিকে মোশাররফ হোসেনের শরীরে ইনজেকশন পুশ করেন এক ইন্টার্নি চিকিৎসক। এর কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।
তার কয়েকমাস পরে গত ৪ অক্টোবর রামেকের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী জনি হোসেনকে (২০)। সেদিন তার সহপাঠিরা দুপুর ১২টার দিকে তাকে দেখতে যান। এসময় তারা রোগি জনির কাছে ভিড় করছে এমন অভিযোগে তাদের ইন্টার্নি ডাক্তার অপু বাইরে যেতে বলেন। এ ঘটনার একপর্যায়ে অপু নিজেকে রামেক ছাত্রলীগের সভাপতি বলে পরিচয় দেন। এই কথা শুনে জনির সহপাঠি মনিরুল ইসলামও নিজেকে ছাত্রলীগকর্মী বলে পরিচয় দেন। এসময় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা প্রায় আধাঘন্টা চিকৎসাসেবা বন্ধ রাখেন।
পরে  ইন্টানি চিকিৎসকরা রামেকের পরিচালক ব্রিগিডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখে করে রোগির সহপাঠিদের বিচার এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে মনিরুল ইসলামকে গ্রেফতারের দাবি করেন। পরে পরিচালক তাদের বিচারের আশ্বাস দিলে তারা আবার কাজ ফিরে যায়। একইদিনে সকাল ৮টার দিকে রামেকের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নাটোরের গুরুদাসপুরের সোলেমান (৬০) ভুল চিকিৎসায় ওই রোগির  মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন রোগীর স্বজনরা। এ ঘটনায় পরে ইন্টার্নি ডাক্তার সুকান্তর সঙ্গে রোগির স্বজন মামুনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইন্টার্নি চিকিৎসকরা কিছুক্ষণের জন্যে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন।
রামেকের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, রোগির স্বজন ও ডাক্তাদের মারামারির বিষয়টি কারো কাম্য না। এসব ঘটনার সমাধানের জন্য আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। কোন রোগি  মারা গেলে তা যে ডাক্তারদের কারণে মারা গেছে তা কিন্তু না। অনেক সময় রোগির অবস্থা এতো খারাপ হয় যে চিকিৎসা দেয়ার আগেই মারা যায়। আমারা ডাক্তাররা চাই না যে কোন রোগির মৃত্যু হোক।
তিনি বলেন, কোন রোগি মারা গেলে রোগির স্বজনরা ডাক্তারদের লাঞ্ছিত করে। এটা ঠিক না। রোগি যদি ডাক্তারের অবহেলায় মারা যায়, তাহলে সেটা তদন্ত করে বের করে তার শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।