রামেক হোস্টেলে ছাত্রশিবিরের গুলিবর্ষণ, গ্রেফতার চার চাইনিজ কুড়াল ও জিহাদি বই জব্দ

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৭, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


গ্রেফতারকৃত ছাত্রশিবিরের সাথী গোলাম রাব্বি ও কর্মী মিজানুর রহমান- সোনার দেশ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষের সময় ছাত্রশিবির কর্মীরা চার রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পুলিশ ছাত্রশিবির রামেক শাখার সাবেক সভাপতি হেলালসহ চার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। রাত আড়াইটা পর্যন্ত কলেজের নূর উন নবী হলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ চাইনিজ কুড়াল ও জিহাদি বই জব্দ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শহিদ জামিল আখতার রতন হোস্টেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এমবিবিএস ৫২তম ব্যাচের র‌্যাগ ডে উপলক্ষে ছাত্রলীগ রামেক শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপুর সঙ্গে ছাত্রশিবির নেতা রাকিবের তর্কবিতর্ক হয়। এসময় শিবির নেতা রাকিব ঘোষণা দেন, র‌্যাগ ডে প্রতিরোধ করা হবে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এসময় প্রতিবাদ করলে উভয় সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ছাত্রলীগ সভাপতি অপু জানান, একপর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ জন ছাত্রশিবির নেতাকর্মী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সংগঠিত হয়ে ছাত্রশিবিরকে প্রতিরোধ করেন। এসময় ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে শহিদ জামিল আখতার রতন হোস্টেল ত্যাগ করে।
তিনি জানান, পালানোর সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিয়ে ছাত্রশিবির রামেক শাখার সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও রেটিনা কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থাপক ছাত্রশিবির নেতা আরিফুল ইসলাম রাহাতকে ধরে ফেলেন। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নূর উন নবী হোস্টেলে তল্লাশি চালায়। এসময় পুলিশ শিবিরের সাথী তৃতীয়বর্ষের গোলাম রাব্বী এবং কর্মী একই বর্ষের মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে। তল্লাশিকালে শিবিরের কলেজ শাখার বর্তমান সভাপতি শিমুলের কক্ষ থেকে চাইনিজ কুড়াল, জিহাদি বই ও মার্বেল জব্দ করে।
অভিযানে অংশ নেয়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার ইবনে মিজান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হোস্টেলে পুলিশ তল্লাশি চালানোর পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত শিবির নেতাকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে শহিদ জামিল আখতার রতন হোস্টেল থেকে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা চলে যাবার সময় গুলিবর্ষণের বিষয়টি স্পর্শকাতর। গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িত শিবির কর্মীর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।