রাম রহিমের ক্যাম্পাসে পুঁতে রাখা হয়েছে অনেক দেহাবশেষ! জানাল ডেরাই

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আরও বড় কেলেঙ্কারির আভাস ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দফতরের ভিতর থেকে। ৬০০ একরের সুবিশাল ক্যাম্পাসের অন্দরে বহু দেহাবশেষ পুঁতে রাখা হয়েছে, এমন জল্পনা ছড়াচ্ছিল গত কয়েক দিন ধরেই। এ বার ডেরার মুখপত্র ‘সচ কহুঁ’-তেও স্বীকার করা হল সে কথা। সিরসায় ডেরা সদর দফতর চত্বরে অনেক ভক্তের দেহাবশেষই পুঁতে রাখা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার ‘সচ কহুঁ’-তে লেখা হয়েছে। তবে সেই সব সমাধি নিয়ে জল্পনার কোনও কারণ নেই বলে পত্রিকাটির দাবি। অনুগামীরা বাবা রাম রহিমের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের দেহাবশেষ দান করে গিয়েছিলেন বলে লেখা হয়েছে ডেরা মুখপত্রে।
‘সচ কহুঁ’-তে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর পর দেহাবশেষ নদীতে ভাসালে পরিবেশ দূষণ হয়। তাই দেহাবশেষ ডেরাকে দান করে দেয়ার জন্য ভক্তদের উৎসাহিত করতেন বাবা রাম রহিম। ভক্তদের দেহাবশেষ ডেরা চত্বরে সমাহিত করে তার উপরে গাছ পুঁতে দেয়া হত বলেও সংগঠনটির কাগজে লেখা হয়েছে।
জল্পনা অবশ্য অন্য রকম। ডেরা প্রধান রাম রহিম অনেককে খুন করিয়েছিলেন এবং তাঁদের দেহই ডেরা চত্বরে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ অনেকের। এক সময়ে ডেরা সচ্চা সৌদার অনুগামী ছিলেন, কিন্তু পরে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, এমন বেশ কয়েক জন সম্প্রতি এই অভিযোগ তুলেছেন। তার পর থেকেই নতুন কেলেঙ্কারির আভাস মিলতে শুরু করেছে।
রাম রহিম ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে যাওয়ার পর থেকেই যে ভাবে ডেরা সম্পর্কে নানা রকম চাঞ্চল্যকর তথ্য বাইরে আসতে শুরু করেছে, তার সত্যতা খতিয়ে দেখতে হরিয়ানা সরকার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দফতরের ভিতরে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানোর অনুমতি চাওয়া হয়। আদালত মঙ্গলবার সেই অনুমতি দেয়। বুধবার থেকে সিরসায় ডেরা সদর দফতর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আদালত নিযুক্ত কমিশনারের তত্ত্বাবধানে আজ থেকে যে তল্লাশি শুরু হবে, তা আগেই জানা গিয়েছিল। তল্লাশি শুরুর ঠিক আগের দিনই ডেরার সংবাদপত্রে স্বীকার করা হল, ডেরা চত্বরে অনেক দেহাবশেষ পুঁতে রাখা রয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে নেতিবাচক জল্পনার কোনও কারণ যে নেই, তাও প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা হল ‘সচ কহুঁ’-তে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ