রাশিয়াকে ‘গোপন তথ্য জানিয়ে দিয়েছেন’ ট্রাম্প

আপডেট: মে ১৭, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্পর্কিত অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রকাশ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা।
সোমবার দেশটির ওই দুই কর্মকর্তার বরাতে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
এ ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্টর দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের হোয়াইট হাউসকে আরেকটি বিতর্কের মধ্যে জড়িয়ে ফেললেন ট্রাম্প।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের ওভাল দপ্তরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকও উপস্থিত ছিলেন।
ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের এক মিত্রদেশের পাঠানো ওই গোয়েন্দা তথ্যগুলো ল্যাভরভের সঙ্গে শেয়ার করেন ট্রাম্প, জানিয়েছেন পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞাত ওই দুই মার্কিন কর্মকর্তা। আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে এসব গোপন তথ্য রাশিয়ার সঙ্গে শেয়ার করার অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রেকে দেয়নি ওই মিত্রদেশ।
ওই দুই কর্মকর্তার মধ্যে একজন জানান, ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প যে গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আলোচনা করেন তা ‘অত্যন্ত গোপনীয়’ হিসেবে শ্রেণিকরণ করা ছিল এবং তা একটি নিরাপদ ‘প্রকোষ্ঠে’ রাখা ছিল যেখানে শুধু হাতেগোনা কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার প্রবেশের অনুমতি আছে।
কথা বলতে বলতে ট্রাম্প স্বতস্ফূর্তভাবে গোয়েন্দা তথ্যগুলো প্রকাশ করে ফেলেন বলে জানান আরেক কর্মকর্তা। এর পরপরই অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা কি হয়েছে তা জানানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সিআইএ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে ডেকে পাঠায়। এই দুই সংস্থা বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ আছে।
ইচ্ছা করলে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করার কর্তৃত্বও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আছে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে যে মিত্রদেশ তথ্যগুলো দিয়েছে তাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া ট্রাম্প এগুলো প্রকাশ করতে পারেন না, কারণ তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রদেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরে চলা গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করার যে চুক্তি আছে তা ঝুঁকিতে পড়বে বলে জানান ওই দুই কর্মকর্তা।
এসব অভিযোগকে ‘সঠিক নয়’ বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ. আর. ম্যাকমাস্টার বলেছেন, “যে গল্পটি আজ রাতে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে যা বলা হয়েছে তা মিথ্যা।”
তিনি দাবি করেন, ওভাল দপ্তরের বৈঠকে দুই নেতা বেসামরিক বিমান চলাচলসহ সর্বজনীন কিছু হুমকি নিয়ে আলোচনা করেন।
“কখনোই গোয়েন্দা তথ্য বা পদ্ধতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জনসাধারণ জানে না এমন কোনো সামরিক অভিযানের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট কিছু প্রকাশ করেননি, আমি ওই ঘরে ছিলাম। এমন কিছু হয়নি,” বলেন তিনি।
হোয়াইট হাউস যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের একটি বিবৃতিও প্রকাশ করেছে; তাতে টিলারসন বলেছেন, ওভাল দপ্তরের বৈঠকে প্রধানত সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে প্রকাশিত খবরকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডিনা পাওয়েল।
কিন্তু এসব সত্বেও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। সিনেটের রিপাবলিকান ও ডেমেক্রেট উভয় দলীয় কয়েজন সিনেটর ট্রাম্পের আচরণকে ‘বিপজ্জনক’, ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ ও ‘অত্যন্ত সমস্যাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।- বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ