রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান সিনেটরদের

আপডেট: ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



সাইবার হামলার মাধ্যমে গত মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করায় রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা।
তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের পদক্ষেপে সিনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থন রয়েছে। তবে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে হ্যাকিংয়ের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রাশিয়ার ওপর কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তা ঘোষণা করতে পারেন।
ওবামার ঘোষণায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়গুলো আসতে পারে। এ নিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে রাশিয়া।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ওয়াশিংটন যদি সত্যিই নতুন করে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাদের জবাব দেওয়া হবে।’
জাখারোভা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ান কূটনৈতিক মিশনের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক জবাব পাবে রাশিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা।’
ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ দাবি করে, তারা খুবই আত্মবিশ্বাসী যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে রাশিয়া সাইবার হামলা চালিয়েছে। তাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে এফবিআই।
সিআইএ ও এফবিআইয়ের দাবির বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিম তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলে, ‘এরা সেই একই লোক, যারা দাবি করেছিলেন সাদ্দাম হোসেনের কাছে বিধ্বংসী অস্ত্রের মজুত আছে।’
রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্ত ঘেঁষা তিনটি বাল্টিক রাষ্ট্র এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুনিয়া সফরে রয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন, লিন্ডসে গ্রাহামা ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার। সফরের সময় তারা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।
সিনেটর গ্রাহাম সিএনএনকে বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা রাশিয়াকে কঠিনভাবে আঘাত করবে, বিশেষ করে ব্যক্তি পর্যায়ে পুতিনকে আঘাত করবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি বলতে পারি, ৯৯ শতাংশ সিনেটর মনে করেন, রাশিয়া এ কাজ (হ্যাকিং) করেছে এবং এর বিরুদ্ধে আমরা কিছু করতে যাচ্ছি।’
রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। অস্ত্র রপ্তানি, তেল রপ্তানি, ব্যাংক ও ব্যক্তিবিশেষের ওপর জোরালো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে রাশিয়া। এরপর যুক্তরাষ্ট্র আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দুর্ভোগ বাড়বে তাদের।
তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন, রউিজিংবিডি