রাশিয়া থেকে সর্বশেষ রি-অ্যাক্টর প্লান্ট আসছে রূপপুর প্রকল্পে

আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০২১, ৯:৩০ অপরাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি:


রাশিয়ার জেএসসি এইএম টেকনোলজির ভল্গোদনস্ক শাখা (রোসাটমের যন্ত্র প্রস্তুতকারি শাখা টোমএনার্গোম্যাস) রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের আসছে রিঅ্যাক্টর প্লান্ট এর সর্বশেষ চালানটি পাঠানো শুরু করেছে। বাংলাদেশে নির্মানাধীন রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর ১২০০ চুল্লির জন্যে চুল্লি পাত্র এবং প্রথম দুইটি স্টীম জেনারেটর পাবে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, রিঅ্যাক্টরটি নির্মাণ প্রক্রিয়ায় ৭৬৮টি অপারেশন এবং ১৪৩ টি কন্ট্রোলিং পয়েন্ট সহ এটিকে নির্মাণ করতে মোট সময় লাগে ২ বছর। এই প্লান্টের বিশেষজ্ঞগণ উপরের ইউনিটের স্ট্যান্ডার্ড কভার যুক্ত হাইড্রলিক টেস্ট সহ চুল্লি পাত্রটির সকল ধরনের সকল ধরনের পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষা চলাকালীন সময় চুল্লিটির অভ্যন্তরে ২৪.৫ এমপিএ চাপ সৃষ্টি করা হয় যা অপারেটিং চাপের চেয়েও ১.৪ গুন বেশি।
যন্ত্রাংশ প্রস্তুতির শেষ ধাপ হলো আভ্যন্তরীন যন্ত্রাংশের পরীক্ষামূলক ভাবে সাজানো। নকশা অনুযায়ী কোর ব্যারেল, কোর বাফেল এবং প্রতিরক্ষামূলক টিউব ইউনিটকে চুল্লিপাত্রের অভ্যন্তরে স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ এই প্লান্টের বিশেষজ্ঞরা যন্ত্রাংশের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এর মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত এই যন্ত্রাংশের জ্যামিতিক পরিমাপ, নকশা অনুযায়ী সারি এবং গুনগত মান নিশ্চিত করা হয়। রিঅ্যাক্টর ও ষ্টীম জেনারেটর প্রত্যেকটির ওজন ৩৪০ টন ও এদের দৈর্ঘে যথাক্রমে ১২ মিটার ও ১৪ মিটার। এগুলোকে প্রথমে প্লান্টের বিশেষ বার্থে নেওয়া হবে এবং সেখান থেকে যন্ত্রাংশগুলোকে জাহাজে করে জলপথে নভোরোসিস্কে নেওয়া হবে। সেখান থেকে এগুলো ১৪ হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।
জেএসসি এইএম টেকনোলোজির ডিরেক্টর জেনারেল ইগোর কটভ বলেন ‘রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প, এই কাজে আমাদের বাংলাদেশি সহযোগীদের যেকোন জিজ্ঞাসা এবং অনুরোধের বিষয়ে আমরা অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী এই পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের মুল যন্ত্রাংশগুলো ঠিক সময়মত পাঠানো হচ্ছে, যা সম্ভব হয়েছে আমাদের কার্যকর মিথস্ক্রিয়া ও আমাদের উপরে ভরসা রাখার জন্যে, এ কারণে এই চালান বাংলাদেশের জন্যে একটি ধন্যবাদ। এখন পর্যন্ত এটি এই আয়তনের শেষ চালান। এটি পারমানবিক শিল্পে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সাথে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ এবং আমি বিশ্বাস করি আমাদের এই সহযোগিতা যে কোনো প্রকারে বজায় থাকবে’।
রি-অ্যাক্টর প্লান্ট প্রস্তুতি অত্যন্ত উচ্চ প্রযুক্তির একটি কাজ যার দক্ষতা বিশ্বে গুটিকয়েক দেশের আছে। জেএসসি এইম টেকনোলোজি রাশিয়ার একমাত্র কোম্পনী যা পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্টীম জেনারেটিং প্লান্টের সম্পুর্ন অংশ তৈরি করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ