রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো তৎপরতা

আপডেট: October 20, 2020, 3:31 pm

সোনার দেশ ডেস্ক:


বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিলের জন্য জোরালো তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার গত ১৭ জুন এক অন্তর্র্বতীকালীন আদেশে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলকে রাশেদ চৌধুরীর মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য নোটিশ দিয়েছেন। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এবং অন্যান্য বিজ্ঞ আইনজীবীর (এমিকি কিউরি) কাছে এ বিষয়ে মতামত চেয়েছেন তিনি। তিন দফা সময় বাড়ানোর পর গত মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) মতামত জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়রম্যান ড. মিজানুর রহমান। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জোরালো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন বলেও মনে করেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটি ইতিবাচক মন্তব্য করে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখন শুনানি হবে। তবে যেভাবে তিনি (উইলিয়াম বার) এগুচ্ছেন তাতে মনে হয়, রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর পক্ষে তার শক্ত যুক্তিতর্ক আছে।’
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৩১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বোর্ড রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করলে এর বিরুদ্ধে আপিল করে সে দেশের সরকার। ২০০৬ সালের ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রানসিসকো অভিবাসন কোর্ট রাশেদ চৌধুরীর পক্ষে রায় দেয়।
আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করি, রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্রে ভুল করে যে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, সেটি এবার প্রমাণিত হবে। এটি যদি প্রমাণ হয়ে যায়, তবে তাকে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আর কোনও বাধা থাকবে না। তখন বাংলাদেশ যেটা চাচ্ছে, অর্থাৎ তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা, সেটি সম্ভব হবে।’
অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষে কী কী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা সম্ভব জানতে চাইলে ড.মিজান তিনি বলেন, ‘এখানে যেভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি পরিচালিত হয়েছে, সেটি অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। এমনকি পলাতক আসামির জন্যও রাষ্ট্র যে ব্যবস্থা করেছিল, সেটি যথোপযুক্ত। ওই সময়ে দেখা গেছে, আসামি পক্ষের আইনজীবীর সংখ্যা রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীর সংখ্যার চেয়ে বেশি এবং তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।’
সরকার কখনোই সামারি ট্রায়ালের চেষ্টা করেনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ওই সময়ে এখান থেকে রিপোর্ট দিয়েছিল যে, বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ছিল। এগুলো কিন্তু অত্যন্ত শক্ত যুক্তিতর্ক।’
রাশেদ চৌধুরীর আমেরিকান আইনজীবীরা ২০০৪ সালে বলেছিলেন, ওই মামলাটি প্রতিহিংসামূলক মামলা। কিন্তু এই যুক্তিতর্কের পর সেটি আর ধোপে টিকে না বলে মনে করেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘রাশেদ চৌধুরীর আইনজীবীরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন, এ প্রশ্নেও অ্যাটর্নি জেনারেল শক্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে পারবেন।’
হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য ইমডেমনিটি আইন পাস করা হয়েছিল। সেটি যুক্তরাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে যায় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পয়েন্টটিও অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থাপন করতে পারবেন।’
অধ্যাপক মিজান বলেন, ‘এই যুক্তিতর্কগুলো অবশ্যই অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থাপন করবেন বলে মনে হয়। এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় বলা হবে যে, রাশেদ চৌধুরী যে কাজ করেছে, সেটি একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যারা সন্ত্রাসী তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্যও হুমকি স্বরূপ।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন