রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো নাম প্রকাশের পরামর্শ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২, ৬:০৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো নাম জনসমক্ষে প্রকাশের পরামর্শ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ নেওয়া বিশিষ্ট নাগরিকরা।

শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সার্চ কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তারা একথা বলেন।
তারা বলেন, ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে যে নামের তালিকা পাঠানো হবে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার পরামর্শ দিয়েছি আমরা। একই সঙ্গে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিদের এখানে রাখা যাবে না বলেও জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সার্চ কমিটি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সবার কথাই মন দিয়ে শুনেছেন। আমাদের সবার একটা বিষয়েই জোর ছিল যে, আগের কোনো সরকারের বিশেষ সুবিধাভোগীরা যেন নতুন ইসিতে সুযোগ না পায়। বিশেষ সুবিধা বলতে, যারা বিভিন্ন সরকারের মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বা সরাসরি সরকারের ঘনিষ্ঠ লোক বলে পরিচিত এমন কেউকে বোঝানো হয়েছে। ‘

তিনি বলেন, যারা রিটায়ার্ড করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সরাসরিভাবে তারা যেন কোনভাবেই কমিটির সুপারিশে না আসে। যাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আছে তারা যেন না আসে। এছাড়া আমরা বলেছি এই ইসিতে যারা আসবেন তাদের যেন সুষ্ঠু নির্বাচন করার একটি মন মানসিকতা, সাহসিকতা এবং ব্যক্তিত্ব থাকে। আমরা আরও বলেছি সব নাম যেন আগেই প্রকাশ করা হয়।

বিভিন্ন স্তরে স্তরে যেমন, কমিশন যদি ৩০ জনের নাম প্রস্তাব করে তার মধ্যে যদি দেখা যায় কারো ব্যাপারে সে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বক্তব্য দেয় সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায়, টক শোতে অংশ নিয়েছে, একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে বলেছে, এটা জনগণ জানাতে পারবে কমিটিকে। তাদেরকে যেন বাদ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে সার্চ কমিটি মন দিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন। কিন্তু কতটুকু রাখবেন সেটা নাম প্রকাশের পরে আমরা বুঝতে পারব। আমাদের এখান থেকে কেউ কোনো নাম প্রস্তাব করেনি। আমরা শুধু বলেছি কিসের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত, কিসের ভিত্তিতে না নেওয়া উচিত। বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচন ব্যবস্থা একটি ক্রাইসিসের মধ্যে আছে। এই অনুসন্ধান কমিটির একটি বিশাল দায়িত্ব রয়েছে সেই আস্থাটাকে ফিরিয়ে আনা। সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে যেন সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্ব পায় সরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আস্থা ও নাস্তার ব্যাপার না। আপনারা যদি আগের অনুসন্ধান কমিটিগুলো দেখেন, তারা যে ইসি প্রডিউস করেছিল; তারা কী করেছে আপনারা তো দেখেছেন। এখানে শতভাগ আস্থা রাখার কোনো জায়গা নেই। এছাড়া এই অনুসন্ধান কমিটির গঠন নিয়েও সমাজে কিছু ভিন্ন মত ছিল। আমাদের কথা হল বৃক্ষ কী তার ফলেই পরিচয়, আলটিমেটলি কী কমিশন গঠিত হয়? কোন ১০ জনের নাম তারা প্রস্তাব করেন? -সেটাই এখন আমাদের দেখার বিষয়। এটার ভিত্তিতেই আমরা বলতে পারব আমাদের আস্থার জায়গা কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, আশা রাখা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। এখানে ব্যক্তিটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের আস্থাটা তৈরি করতে হবে।

সভা শেষে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনার (ইসি) হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব নাম জমা দিয়েছে সার্চ কমিটিকে তা প্রকাশ করতে বলেছি। নামগুলো প্রকাশ করলে জানা যাবে আসলেই রাজনৈতিক দলগুলো সুষ্ঠু নির্বাচন চায় কি না।

তিনি বলেন, সার্চ কমিটি আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তারা বলেছেন, আমাদের কথাগুলোর রেকর্ড থেকে আবারও শুনবেন।
এর আগে শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে সুপ্রিম কোর্ট কনফারেন্স রুমে বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি। এই বৈঠক চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

বৈঠকে আপিল বিভাগের বিচারপতি ও সার্চ কমিটির প্রধান ওবায়দুল হাসান, সদস্য হাইকোর্টের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক ইসি মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক উপস্থিত ছিলেন।

আর বিশিষ্টজনদের মধ্যে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ এফ এম হাসান আরিফ, ঢাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, আইন বিভাগে অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান ও একই বিভাগের আসিফ নজরুল, সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান, বোরহান উদ্দিন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সিইসি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগে নতুন ইসি গঠন করা হবে। অনুসন্ধান কমিটি সিইসি ও ইসিদের প্রতি পদের জন্য ২ জন করে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবে। এ ১০ জনের মধ্য থেকে সিইসিসহ ৫ জনকে নিয়ে ইসি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ