রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর অবদান

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

[তসিকুল ইসলাম সম্পাদিত ১৯৯০ সালে প্রকাশিত ‘রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন স্মারকপত্র’ থেকে-]
বিচারপতি মোহাম্মদ আনসার আলী


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
১৯৪৮ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় আমি মফস্বলে বর্তমানে নওগাঁ জেলার বদলগাছী হাই স্কুলের একজন ছাত্র ছিলাম। প্রত্যক্ষভাবে তমদ্দুন মজলিস বা ভাষা আন্দোলনে তখন জড়িত ছিলাম না। তাই এ সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তবে শুনেছি যে, ১৯৪৮ এর আন্দোলনের ঢেউ কিছুটা রাজশাহীতেও লেগে ছিল। বিশেষ করে রাজশাহীর বামপন্থী জননেতা জনাব আতাউর রহমান, তৎকালীন রাজশাহী কলেজের ছাত্র জনাব একরামুল হক (পরে অধ্যাপক ও বর্তমানে ব্যবসায়ী) জনাব আবুল কাশেম চৌধুরী (বর্তমানে অধ্যাপক) এ আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। তাঁরা এজন্য কারাবরণ করেন। তবে এ আন্দোলনে নাকি ছাত্রদের ছাত্রদের মধ্যে বিভেদ দেখা দেয় এবং তারা দু’ভাগ হয়ে যায়। ফলে আন্দোলন তেমন ব্যাপকতা লাভ করে নাই।
পরবর্তীতে আসে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক মহান ভাষা আন্দোলন। আমি আগেই বলেছি, আমি তখন রাজশাহী কলেজের ছাত্র। এ আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম। মনে পড়ে ১৯৫২ সালের ২৭শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়মানের এক জনসভায় পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহম খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন ‘উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে’Ñ আর সঙ্গে সঙ্গে সর্বত্র তার তীব্র প্রতিবাদ উঠে। ২৯শে জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা। ৩০শে জানুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট। ৩১শে জানুয়ারি ঢাকা বার লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত হয় সর্বদলীয় সভা ও সংগ্রাম পরিষদ গঠন। আর এর আহ্বায়ক মনোনীত জন জনাব কাজী গোলাম মাহবুব (বর্তমান সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট)। এরপর ৪ঠা ফেব্রুয়ারি আহুত হয় তৎকালীন সারা পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র ধর্মঘট। রাজশাহীতেও আমরা সক্রিয়ভাবে ভাষা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি। আমি তখন রাজশাহী কলেজের নিউ মুসলিম হোটেলে ‘এ’ ব্লকে ছিলাম। ৩০শে জানুয়ারি কি করা যায় ভাবছিলাম। এমন সময় সকালে হোস্টেলের বাইরে থেকে রাজশাহী কলেজের ছাত্র আমার সহপাঠী আবুল কালাম চৌধুরী (পরে রাজশাহী জজকোর্টের বিশিষ্ট অ্যাডভোকেট, আজ আর আমাদের মাঝে নেই) আমাদের ব্লকে আসেন এবং আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সঙ্গে নেতৃস্থানীয় ছাত্র জনাব হবিবর রহমান (বর্তমানে ঢাকায় চাকরিরত) জনাব রইছ উদ্দিন আহমদ, রাজশাহী মেডিক্যাল স্কুলের ছাত্র এ গাফফার (রাজশাহীতে ডাক্তারি করতেন, এখন বিদেশে), জনাব ওয়াহিদুল হক (দুলু) (বর্তমানে বিদেশে) আমরা ‘এ’ ব্লকের একপ্রান্তে বসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ও বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট ও মিছিলের সিদ্ধান্ত নিই এবং সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করি। টিনের চোঙ্গা দিয়ে ধর্মঘট ও মিছিলের কথা ঘোষণা করে দেয়া হয়। কলেজ হোস্টেল থেকে মিছিল শুরু হয়।
(চলবে)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ