রাষ্ট্রীয় সংস্কারে বিএনপির ১৮ প্রতিশ্রুতি দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদে গুরুত্বারোপ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২, ১১:০১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


‘জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরবর্তীতে জাতীয় সরকার ও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ অপরিহার্য’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রীয় সংস্কারে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ২০ টি উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর হোটেল এক্স-এ বিএনপি মিডিয়া সেলের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভার প্রতিশ্রুতিগুলো ব্যক্ত করে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

মতবিনিময় সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্বাচন ব্যবস্থা, সমাজিক মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দলীয়করণ করা হয়েছে। এককক্ষীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতায় এলেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। তাই আমরা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন হলে মৌলিক পরিবর্তন হবে বলে বিশ্বাস করি না। এর জন্য পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থার মেরামত দরকার। তাই সব ছোট-বড় রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গড়ে তুলব।

তিনি বলেন, বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা এখন সময়ের দাবি। পৃথিবীর উন্নত ও অনুসরণযোগ্য অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার প্রচলন রয়েছে। তাই বাংলাদেশে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গড়ে তোলা জরুরি।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারাহানা বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় আন্দোলন এবং একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের আন্দোলন কখনোই এক রকম হয় না। পুলিশ না থাকলে আওয়ামী স্বৈরশাসক কতক্ষণ মাঠে টিকে থাকবে সেটাই বড় প্রশ্ন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে সঞ্চালনায় ছিলেন, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন। মতবিনিময় সভায় শিক্ষক, আইনজীবী, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য রাখেন। এসময় বক্তারা সরকারের পাশাপাশি নিজেদের ব্যর্থতার কারণগুলো তুলে ধরেও সমালোচনা করেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় সংস্কারে বিএনপির ১৮ টি প্রতিশ্রুতি হলো: সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন, প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষে জুডিশিয়াল কমিশন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার লক্ষে মিডিয়া কমিশন, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষে অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে প্রবর্তন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সকল প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন, স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন সংশোধন, আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন, সংসদীয় কমিটির ভেটিং সাপেক্ষে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহে নিয়োগ, বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রবর্তন, দুর্নীতি প্রতিরোধে ন্যায়পাল নিয়োগ, ধর্ম পালনে স্বাধীনতা নিশ্চিত, বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি গ্রহণ, প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণসহ জাতীয় সংসদে নারী আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ