রাসায়নিক অস্ত্রনিরোধী বিশ্ব সংস্থার নেতৃত্বে বাংলাদেশ

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



নোবেলজয়ী রাসায়নিক অস্ত্রনিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অফ কেমিক্যাল উইপনসের (ওপিসিডব্লিউ) নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ এ পদে এবারই প্রথম নির্বাচিত হলো বলে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, “কূটনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি ‘বড় অর্জন’।”
১৯৯৩ সালের রাসায়নিক অস্ত্রনিরোধ সনদ (সিডব্লিউসি) কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৭ সালে নেদারল্যান্ডসের হেগে যাত্রা শুরু করে ওপিসিডব্লিউ। রাসায়নিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার চেষ্টার স্বীকৃতি হিসাবে ২০১৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পায় সংস্থাটি। ওপিসিডব্লিউতে ১৯২টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সিডব্লিউসিতে স্থায়ী প্রতিনিধি শেখ মোহাম্মদ বেলাল ৪১ সদস্যের এই নির্বাহী পরিষদে ‘সর্বসম্মতভাবে’ নির্বাচিত হন। তবে এর আগে এশিয়ান গ্রুপের অধীন ৫৩ সদস্যের স্টেট পার্টিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে একক প্রার্থী মনোনীত হয় বাংলাদেশ।
পর্যায়ক্রমিকভাবে এশিয়ান গ্রুপ থেকে প্রতি পাঁচ বছরে একবার চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পায় এবং এ পর্যন্ত এই গ্রুপ চারবার দায়িত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে ভারত দুবার এবং শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপিন্স একবার করে নির্বাচিত হয়েছে।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পরিষদের বিংশতিতম চেয়ারপারসন হবেন বেলাল।১২ মে থেকে তার এক বছরের দায়িত্বের মেয়াদ শুরু হবে।
ওপিসিডব্লিউ পরিচালনা করে থাকে পরিচালনা পর্ষদ। অস্ত্র নিরোধ সনদ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা নজরদারি করে থাকে এই সংস্থা।
ওপিসিডব্লিউ জাতিসংঘের সংস্থা না হলেও নীতিগত বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে এ দুই প্রতিষ্ঠানের। কোনো দেশে রাসায়নিক অস্ত্রের বিষযে পরিদর্শন বা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হলে জাতিসংঘ ওপিসিডব্লিউর সহায়তা নেয়। এ বিষয়ে ২০০০ সালে একটি চুক্তিও করে দুই সংস্থা।
নোবেল কমিটির বিবৃতি বলা হয়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধর সময় একটি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ১৯২৫ সালে জেনেভা সনদের মাধ্যমে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু তারপরও রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন ও মজুদ করার সুযোগ থেকেই যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার এই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেই ব্যাপক গণহত্যা চালান। ১৯৯২-৯৩ সালে আরেক সনদের মাধ্যমে রাসায়নিক অস্ত্রের উৎপাদন ও মজুদও নিষিদ্ধ করা হয়, যা কার্যকর হয় ১৯৯৭ সালে। তার পর থেকেই ওপিসিডব্লিউ তদন্ত চালিয়ে এবং মজুদ ধ্বংসের মাধ্যমে রাসায়নিক অস্ত্র নিরোধে ভূমিকা রেখে আসছে।- বিডিনিউজ