রাসিকের কর্মী ছাঁটাই || নাগরিকদের প্রতিষ্ঠান অমানবিক কেন?

আপডেট: মে ২৯, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরিভিত্তিক দেড় শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। যারা ছাটাই হয়েছেন তারা বলছেন যে, তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তাদের ভাষায় ছাটাইয়ের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অমানবিক এবং তাদের পারিবারিক জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। রোববার দৈনিক সোনার দেশে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী মেয়র হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ৫ এপ্রিল নতুনভাবে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে দেড় শতাধিক দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাই করা হলেও শ্রমিক ও কর্মচারীদের তাদের প্রাপ্য বেতন দেয়া হয় নি। বিএনপি নেতা বুলবুল সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবু ও নিযাম উল আযীমের সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের ছাঁটাই করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
বাংলাদেশ সিটি ও পৌর কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজমীর আহম্মেদ মামুন ছাটাইয়ের সত্যতা স্বীকার করে তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই ছাটাই প্রক্রিয়াকে ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে এই ছাটাই শেষ নয়Ñ পাঁচ শতাধিক কর্মী ছাটাইয়ের জন্য তালিকা করা হয়েছে। এই প্ররিস্থিতি রাসিক কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এতে করে করপোরেশনে বিশৃঙ্খলা ও কাজে স্থবিরতা সৃষ্টির আশংকা করা হচ্ছে।
২০০৮ সালের রাসিক নির্বাচনে জয়লাভের পর রাসিক মেয়র হিসেবে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দায়িত্ব নেয়ার পর করপোরেশনকে একটি সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলেন। তাঁর একান্ত প্রচেষ্টা ও কর্মউদ্যোগের ফলে রাজশাহী মহানগরী একটি আধুনিক নগরীর মর্যাদা পেতে শুরু করে। যা সারা দেশের মানুষের নজর কাড়ে। জনাব লিটন কখনই নগরভবনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বরং নগর ভবনকে নাগরিকদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা দৃশ্যমান ছিল। তিনি তাঁর পূর্বের মেয়রের রাজনৈতিকভাবে নিয়োগকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি সফলও হয়েছেন।
মজুরিভিত্তিক যে সব কর্মচারী নিয়োগ হয় তারা হয়ত কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক বটে কিন্তু তাদের অধিকাংশই যে অসহায়- দরিদ্র মানুষ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এরা চাকরি হারালে তাদের জীবন-জীবিকা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অভুক্ত থাকার কারণ সৃষ্টি হবে। ঈদের আগে ছাটাইয়ের মত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অমানবিক কাজ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ শুধু ছাটাই করেছেন তা নয়Ñ দলীয় বিবেচনায় নিয়োগও শুরু করেছেন। এটা ‘প্রতিহিংসার’ অভিযোগকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
দলীয় বিবেচনায় ছাটাই প্রক্রিয়া করপোরেশনে অস্থিরতাই তৈরি করবে বলে আমরা মনে করি। দায়িত্ব ও কাজটাকেই বেশি গুরুত্ব দিলেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলার সাথে নাগরিক প্রতিষ্ঠানটিকে পরিচালনা করলেই এর সেবা কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ