রাসিকের নাগরিক সেবা এখন অনলাইনে ‘স্মার্ট রাজশাহী’ ওয়েবসাইট ও অ্যাপস এর উদ্বোধন

আপডেট: মে ৩, ২০২১, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা অনলাইনে প্রদানের জন্য স্মার্ট রাজশাহী (https://smartrajshahi.gov.bd) ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপস এর উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (০৩ মে) বিকেল ৩টায় ভার্চুয়াল এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েব ও অ্যাপস এর উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। স্মার্ট রাজশাহী ওয়েব ও অ্যাপস এ নিবন্ধন করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৪টি সেবা পাওয়া যাবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে সেলট্রন।
ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, দেশ অনেক এগিয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের নিকট বাস্তব রূপ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তিনটি প্লাটফরমে ‘স্মার্ট রাজশাহী’ ব্যবহার করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সেবাগুলো পাবেন নাগরিকরা। তা হলো, ওয়েব সাইট, মোবাইল এ্যাপস অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস। অনলাইনে সেবা পাওয়ার নাগরিক সেবার উন্নয়ন ঘটবে। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের ২৪টি সেবা প্রদান করা হলেও আগামীতে সেবার পরিধি বাড়বে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দৃঢ়সংকল্প ও দূরদর্শিতার জন্যই তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বের বুকে আজ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের নাম বাংলাদেশ। ‘আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিকনির্দেশনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ তার পরিপূর্ণ রূপ পেয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। আরও ৫ হাজার স্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হবে। সকলের কাছে স্বল্প মূল্যে ইন্টারনেট পৌছে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে সাড়ে ১১ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। তথ্য ও প্রযুক্তির প্রসারে সারাদেশে ৩৯টি হাইটের্ক পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫টি পার্কের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন ভাইয়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক নির্মিত হচ্ছে। এখানে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে।
তিনি আরও বলেন, লিটনের ভাইয়ের নির্দেশে স্মার্ট ও আধুনিক সিটি গড়তে ‘স্মার্ট রাজশাহী’ ওয়েব ও এ্যাপস প্রতিষ্ঠার গ্রহণ করা হয়। সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সেবা কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আসলো। এখন থেকে অনলাইনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন নাগরিকরা।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মেয়র লিটন ভাই ইতোমধ্যে রাজশাহীকে ইতোমধ্যে সবুজ, পরিস্কা-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলেছেন। রাজশাহীর সুনাম দেশের সীমনা ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। রাজশাহীকে তিনি বিশ^বাসীর নিকট মডেল শহর হিসেবে পরিণত করেছেন। আগামীতে আধুনিক ও স্মার্ট সিটি হিসেবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন হবে পাওনিয়ার। রাজশাহীকে অন্যান্য সিটি অনুসরণ করবে। রাজশাহীকে আধুনিক ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তিগত সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সেলট্রনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ ফাউজুল মুবিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোবাইল গেইম ও এ্যাপ্লিকেশন এর দক্ষতা উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প পরিচালক জনাব মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
স্মার্ট রাজশাহীতে কী কী থাকছে: সিটি করপোরেশন সচিবালয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রকৌশল, রাজস্ব ও স্বাস্থ্য বিভাগকে অনলাইনে এ্যাক্সেস করা যাবে। এই সকল বিভাগের সংশ্লিষ্ট সেবাসমূহ যেমন- বিরোধ নিস্পত্তি, বিবাহ বিচ্ছেদ, আর্থিক সহযোগিতা, নাগরিক সনদপত্র, উত্তরাধিকার সনদপত্র, বিবিধ সনদপত্র, সিটি করপোরেশনের স্থান ভান ভাড়া, ইজারা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদার লাইসেন্স নবায়ন, তালিকাভুক্ত ভূমি ব্যবহার অ-সম্মতি, ট্রেড লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, রাজস্ব সংগ্রহ, নেম সেপারেশন, হোল্ডিং ট্যাক্স, হোল্ডিং ট্যাক্স রিভিউ, হোল্ডিং ট্যাক্স পুননির্ধারণ, প্রেমেসিস নিবন্ধন, পরিবশে দূষণ প্রতিরোধ, পোষা প্রাণীর লাইসেন্স, মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন প্রভূতি সেবার জন্য নাগরিকরা এখন থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। শুধু আবেদনই নয় সেবার নির্ধারিত মূল্য, সেবার অগ্রগতি যাচাই করার পাশাপাশি চূড়ান্ত সেবাও অনলাইনে পাওয়া সম্ভব হবে।
নিবন্ধন ও আবেদন : smartrajshahi.gov.bd ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে নাগরিক সেবার জন্য একজন নাগরিককে নিবন্ধন করতে হবে। এই নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয় পত্রসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। একবার নিবন্ধন করলেই নাগরিক শুধুমাত্র লগ ইন করেই পরবর্তীতেও ভিন্ন ভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র ভেরিফিকেশনের পর নিবন্ধত নাগরিক সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহের সেবা থেকে নির্দিষ্ট সেবার জন্য অনলাইন ফরম পূরণ করে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় সংযুক্তিগুলো নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আবেদনের সাথে যুক্ত করতে হবে।
সেবা মূল্য পরিশোধ : সেবা প্রাপ্তি জন্য সেবার নির্দিষ্ট মূল্য দুইভাবে পরিশোধ করা যাবে। একটি হচ্ছে অনলাইনে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা বিক্যাশের মাধ্যমি সিটি কর্পোরেশনের পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে ঘরে বসেই মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অবার দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে টাকা পরিশোধ করে পেমেন্ট স্লিপটি ছবি তুলে বা স্কান করে আবেদনের সাথে সংযুক্ত করে দিতে হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানের পর নাগরিকরা তাদের প্যানেল থেকে পেমেন্টের স্যাস্টাস দেখতে পাবেন। একটি সফল পেমেন্টের পর নাগরিকের আবেদনটি পরবর্তী ধাপের জন্য প্রক্রিয়া করা হবে।
সেবা প্রাপ্তি : পেমেন্টেটি সফল হলে অনলাইল প্লাটফর্মের ভেতর দিয়েই আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে পর্যায়ক্রমিকভাবে পৌঁছাবে। তাঁদের কার্যক্রম শেষ হবার পর নাগরিক সেবার জন্য চূড়ান্দভাবে বিবেচিত হলে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেবাটি তাঁর প্যানেল থেকেই গ্রহণ করতে পারবেন। বিভিন্ন সনদ, লাইসেন্স, অনুমতি পত্র, বরাদ্দ প্রভূতির ডিজিটাল ভার্সন নাগরিকরা সিস্টেম থেকে ডাউন্ড লোড ও প্রিন্ট করতে পারবেন। পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনে উপস্থিত হয়েও হার্ড কপি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
সেবা প্রাপ্তি অগ্রগিত যাচাই : নাগরিকরা তাদের ইউজার প্যানেলে লগ ইন করেই আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। প্রত্যেকটি আবেদন পর্যায়ক্রমিকভাবে সিটি করপোরেশনের কোন কর্মকর্তার টেবিলে আছে তা সিস্টেম থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা সম্ভব হবে। কতদিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে, তাও এই সিস্টেম থেকে জানা যাবে।