রাসিক-এর সাবেক মেয়র লিটন এর মেয়াদকাল : একটি পর্যালোচনা

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সরিফুল ইসলাম বাবু


তিন.
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সাহেববাজার বড় মসজিদ পুরানো হয়ে যাওয়ায় এবং মুসল্লি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থান সংকুলান হচ্ছেল না। এ জন্য এটিকে ভেঙ্গে নতুন বিল্ডিং করার মুসল্লিদের দাবির প্রেক্ষিতে সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু সিটি করপোরেশন থেকে টেন্ডারের ব্যবস্থা করেন। উক্ত টেন্ডারে ৪৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়। বাকি কাজ সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন সমাপ্ত করার উদ্যোগ নেন এবং তাঁর সময়েও ৪৫ ভাগ কাজ হয়- বাকি কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের বর্তমান সিটি ভবন কমপ্লেক্স সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু প্রথম পর্যায় ৫ তলা নির্মাণ করেন পরে সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন দ্বিতীয় পর্যায়ে উর্দ্ধমুখি আরো ৫ তলা নির্মাণ এবং পেছনে এক্সটেনশন ভব ন( এনেস্ক ভবন) নির্মাণ করেন। এনেস্ক ভবন তিন তলা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মূল ভবন ১০ তলা।
রাজশাহী শহরের প্রায় সকল গোরস্থানের ভিতরের রাস্তা সিরামিক ইট দিয়ে তৈরি করা বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট নির্মাণ, উঁচু বিদ্যুৎ পোলে হাইপ্রেসার পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা করা হয় এবং নিচু হওয়ার কারণে বর্ষাকালে পানি জমে থাকার জন্য গোরস্থানে দাফন করার অসুবিধা দূর করার জন্য প্রচুর মাটি ভরাটের কাজ করা হয়।
হিন্দু ধর্মের মানুষের জন্য শ্মশান ঘাট উন্নয়ন ও অফিসের জন্য দুই তলা আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়। মিয়াপাড়ায় বহু পুরানো জরাজীর্ণ ধর্মসভা ভবনটি ভেঙ্গে আধুনিক মানের ধর্মসভা ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয় (কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে)। কুমারপাড়া বরদা কালী মন্দিরে অতীতের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়।
রাজশাহী মহানগরে অন্তত ২০০ টি মসজিদ ও বেশ কিছু মন্দিরের উন্নয়ন করা হয়। মহানগরে অনেকগুলি হাইস্কুলের ও কলেজের উন্নয়ন কাজ করা হয়। দরগাপাড়ায় রাব্বা ক্লাবের ভবন নির্মাণ করা হয়।
সদর হাসপাতাল মোড় হেতমখাঁয় রেডক্রিসেন্ট স্কুল নির্মাণ ও রেডক্রিসেন্ট ভবন নির্মাণ এবং স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি ও ডোনারদের অর্থ সহায়তায় ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করা হয়।
বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে শিশু হাসপাতালের অভাব পূরণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শুরু করা হয় স্থানীয় পর্যায়ে দানশীল ব্যক্তিগণের নিকট অর্থ সংগ্রহ, গঠন করা হয় হাসপাতালের পরিচালনা কমিটি, ভাড়া নেয়া হয় সিপাইপাড়ায় হাসপাতালের জন্য বিল্ডিং। ২০১০ সালের ৫ জুন ১২০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালের যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে শিশুদের চিকিৎসার সেবা অব্যাহত রয়েছে। টিবি হাসপাতালের পূর্বপাশে স্থায়ীভাবে এই শিশু হাসপাতালটির ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। অচিরেই রাজশাহীতে এ হাসপাতালটি সরকারিভাবে চালু হবে।
শহর রক্ষা বাঁধের উপর কয়েক কিলোমিটার রাস্তা কার্পেটিং করা হয়Ñ ফলে পুরো বাঁধের উপর মানুষের নিরাপদে হাঁটার সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাঠানপাড়ার দীর্ঘদিনের ভাঙ্গাপুল সোজা করে নদীগর্ভ থেকে জমি উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় ঈদগা সম্প্রসারণ করে ঈদগার আয়তন দ্বিগুন করা হয়। এর ফলে রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়। (চলবে)  লেখক:  সাবেক প্যানেল মেয়র-০১.রাসিক।