রাসিক কর্মচারীদের ১১ দফা দাবিতে বিক্ষোভ ।। ৯ জুলাই কর্মবিরতি ও ধর্মঘট

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৭, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ইউনিয়নের ১১ দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে নগর ভবনের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল শেখ। সভার শুরুতে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় মৃত কর্মচারীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
বিক্ষোভে বলা হয়, শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে আন্দোলন করা হচ্ছে। ঈদের আগেও একাধিকবার কর্মবিরতি দেয় হয়। একপর্যায়ে রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল শ্রমিকদের আশ্বাস দিলে ৬ জুলাই বৈঠকের কথা বলেন। ঈদের পর গতকাল বুধবার দুপুরে কাউন্সিলদের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়নের বৈঠক বসে। এতে শ্রমিকরা তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। বৈঠকে শ্রমিকদের কাঙ্খিত দাবি আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নেন কর্মচারীরা। ৯ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের দাবি কার্যকর না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া হবে শ্রমিক নেতারা জানান।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি দুলাল শেখ বলেন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি। এমতাবস্থা আন্দোলনে নামতে হচ্ছে। এই দাবির বিষয়ে ঈদের পর বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের কথা ছিল। কিন্তু রাসিক কাউন্সিলদের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়নের বৈঠক বসে সেখানে কোন ফলাফল হয়নি।
এবিষয়ে রাসিক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজমীর আহম্মেদ মামুন বলেন, রাসিক প্রশাসন আমাদের সাথে প্রতারণা করছে। আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। যা এখন আমাদের প্রহসন মনে হচ্ছে। বিশেষ করে এক নম্বর ইস্যুতে তাদের বেশি অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, শ্রমিকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা এমনভাবে চলতে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, আগামি ৯ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের সকল দাবি দাওয়া মেনে না নেয়া হলে সকল কর্মচারীদের নিয়ে লাগাতার কর্মবিরতিতে ও ধর্মঘটে যাওয়া হবে বলে কর্মসূচিতে জানানো হয়।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মচারীদের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মচারীদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধি, স্থায়ী কর্মচারীদের জ্যোষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদান, স্থায়ী কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণের ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা, মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পোষ্যদের চাকরি প্রদান, মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অবসরকালীন ভাতা সম্পন্নরুপে প্রদান, স্থায়ী কর্মচারীদের বদলি, সকোজ ও সাসপেন্ড বন্ধ এবং বরখাস্তকৃতদের চাকরিতে পুনর্বহাল, সাংগঠনিক কাঠামো সংশোধন পূর্বক নিয়োগের ব্যবস্থা, মজুরী ভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী, কল্যাণ তহবিল বাস্তবায়নে চুড়ান্ত অনুমোদন এবং স্থায়ী কর্মচারীদের পোশাক, জুতা ও ছাতা সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন রাসিকের দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে নগরভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ